ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শেষের ক্রান্তিকালে দুর্দান্ত বোলিং দেখিয়ে পাকিস্তানকে ২৭৪ রানে থামাল বাংলাদেশ। ৩৯তম ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২৩১। এই অবস্থায় তিনশর গণ্ডি ছুঁতে পাকিস্তানকে কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হতো। কিন্তু শেষের কয়েক ওভারে বাংলাদেশি বোলারদের চমৎকার পারফরম্যান্স সব পরিকল্পনা ভেঙে দিলো।
সফরকারীরা শেষ ৭ উইকেটে মাত্র ৪৩ রান তুলতে পারল। ৪৮তম ওভারে রিশাদের তৃতীয় বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় মোহাম্মদ ওয়াসিম সাইফ হাসানের হাতে ধরা পড়লে পাকিস্তানের ইনিংসের অবসান হয়। শেষ পর্যন্ত ওয়ানিম ৪ বল খেলে ১ রান করেন, অপরাজিত থাকেন হারিস রউফ ৩ বল খেলে ২ রানে।
বাংলাদেশের পেসার রিশাদ হোসেন ৫৬ রান খেয়ে ৩ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করেন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৪ রান খেয়ে ২ উইকেট নেন।
পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স
* সাদাকাত ৭৫ রান
* সালমান আলি আগা ৬৪ রান
* মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪৪ রান
* সাহিবজাদা ৩১ রান
অন্যান্যরা তুলনামূলক কম রান করেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানেই অলআউট হয়।
খেলার প্রধান ঘটনা
* মাজ সাদাকাত আগ্রাসী ব্যাটিং করে দ্রুত রান তোলেন। প্রথম দশ ওভারে তিনি ৪৭ রান করেন।
* শতরানের জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ, মাজ সাদাকাতের সঙ্গী সাদাকাতকে ৭৯ বলের ১০৩ রানের জুটি থেকে ফেরান।
* রিজওয়ান-সালমান আলি আগার চতুর্থ উইকেটে ১০৮ রানের জুটি গড়লেও শেষ পর্যন্ত অদ্ভুত রান আউটে জুটি ভেঙে যায়।
* শেষ দিকে রিশাদের চমৎকার বোলিংয়ে শাহিন আফ্রিদি, মোহাম্মদ ওয়াসিম ও অন্যরা আউট হন।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ
* রিশাদ হোসেন: ৯.৩ ওভারে ৫৬ রান খেয়ে ৩ উইকেট
* মেহেদী হাসান মিরাজ: ১০ ওভারে ৩৪ রান খেয়ে ২ উইকেট
* নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ উইকেট পান ১টি করে
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের দীর্ঘ সংগ্রাম ব্যর্থ হয় এবং বাংলাদেশ চূড়ান্তভাবে তাদের উপর জয় নিশ্চিত করে।
দল ও অধিনায়ক: বাংলাদেশ একাদশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে ফিল্ডিং নেয়ার সিদ্ধান্ত ম্যাচের অন্যতম কৌশল হিসেবে কাজ করে।
পাকিস্তান দল: শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আব্দুল সামাদ, হারিস রউফ, ফাহিম আশরাফ, হুসাইন তালাত, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মোহাম্মদ ওয়াসিম, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলি আগা, শামিল হুসাইন।
এই জয় বাংলাদেশের সিরিজ জয় নিশ্চিতের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী ম্যাচে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই দলের মূল লক্ষ্য।
সানা/আপ্র/১৩/৩/২০২৬