প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপে খেলছে বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচে হারের পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে আফঈদারা। এই ম্যাচ জিততে পারলে তৈরি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ।
সেই লক্ষ্যে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে নামতে চায় পিটার বাটলারের দল। সোমবার বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় পার্থের র্যাকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ। কঠিন লড়াই জিতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় দেখা গেছে পুরো দলের মধ্যেই।
পার্থে পৌঁছে প্রথম দিন হালকা হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটিয়েছিল দল। রবিবার ই অ্যান্ড ডি লিটিস স্টেডিয়ামে প্রায় দেড় ঘণ্টা অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন ঋতুপর্ণারা। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে কী কৌশলে নামবে দল, সেটিও বুঝিয়ে দিয়েছেন কোচ পিটার বাটলার।
মুখে সরাসরি কেউ না বললেও আকার-ইঙ্গিতে স্পষ্ট—উজবেকিস্তানকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে ১২টি দল অংশ নিয়েছে। তিনটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল সরাসরি শেষ আটে উঠবে। বাকি দুটি জায়গা পাবে গ্রুপে তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুটি। ‘বি’ গ্রুপ থেকে এরই মধ্যে প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন ও তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া।
বাকি দুই দল উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশ দুই ম্যাচে হেরে পয়েন্টশূন্য। গোল ব্যবধানে উজবেকিস্তান (-৬) তিন নম্বরে এবং বাংলাদেশ (-৭) চার নম্বরে অবস্থান করছে। শারীরিক শক্তির দিক থেকে উজবেকিস্তান দল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও গতি ও স্কিলে বাংলাদেশের মেয়েরা কম নয়।
তবে ফিফা র্যাঙ্কিং বলছে ভিন্ন কথা—উজবেকিস্তান রয়েছে ৪৯ নম্বরে, আর বাংলাদেশ ১১২ নম্বরে। এখন মাঠের লড়াইয়েই তার প্রমাণ দিতে হবে।
পার্থে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল দল জয়ের বিষয়ে কতটা সিরিয়াস।
সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যেভাবে খেলার চেষ্টা করছি, সে বিষয়ে আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। মেয়েরা ভুল করবে, কিন্তু তারা নতুন কিছু করার চেষ্টা করবে—যতক্ষণ তারা গেমপ্ল্যান অনুযায়ী খেলছে এবং আমাদের কাজের ধরন বা নিয়মগুলো মেনে চলছে। আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে এবং দৃষ্টিভঙ্গিতে বাস্তববাদী থাকতে হবে।
তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—হার বা জিত যাই হোক না কেন—তারা যেভাবে অংশগ্রহণ করছে, কঠোর পরিশ্রম করছে এবং নিজেদের সামলে নিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ মেয়েদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ইংলিশ এই কোচ। তিনি মনে করেন, ‘এই মেয়েরা যেভাবে কাজগুলো করছে তা অবশ্যই সম্মানের যোগ্য। তারা একটি চমৎকার টুর্নামেন্ট কাটিয়েছে।
এই টুর্নামেন্ট থেকে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো মেয়েদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে উৎসাহিত করা। তারা এখান থেকে যা শিখবে, দেশে ফিরে তা কাজে লাগাতে পারবে—এটাই ভবিষ্যতে তাদের অনেক দূর নিয়ে যাবে।’ পরের ম্যাচেও একই ফরমেশনে দল নামবে কিনা—এমন প্রশ্নে বাটলার বলেন, ‘আমরা ঋতুকে (ঋতুপর্ণা) কেন্দ্র করে সব কিছু করি না।
ঋতু একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়, যার অনেক সম্ভাবনা আছে। আমাদের আরও পেশাদার হতে হবে। আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে—আজ কিছু কাজ করেছি, কাল সকালেও কিছু কাজ করবো। তবে এটি কোনও একজনের বিষয় নয়, পুরো দলের বিষয়। কাজের চাপের কথা মাথায় রেখে হয়তো কিছু খেলোয়াড়কে অদলবদল করতে হতে পারে।
গত কয়েক দিনে কিছু মেয়ে একইরকম উচ্চ পর্যায়ে টানা দুটি ম্যাচ খেলেছে। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। আমরা ইতিবাচক থেকে আমাদের গেমপ্ল্যান বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।’
ডিসি/আপ্র/ ৮/৩/২০২৬