প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন বৈভাব সুরিয়াভানশি। তবে অল্পের জন্যই সেই মধুর স্বাদ থেকে বঞ্চিত হলেন তিনি। তারপরও পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসের পথে প্রায় পাঁচ যুগ পুরনো একটি রেকর্ড ভেঙে ফেললেন ভারতের এই বিস্ময়বালক।
ভারতের প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা দুলিপ ট্রফির সেমিফাইনালে সোমবার সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে ৯২ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন সুরিয়াভানশি। ইস্ট জোনের এই ওপেনার ৮১ বলের ইনিংসটি সাজিয়েছেন সাতটি করে ছক্কা ও চারের মারে। মাত্র ১৫ বছর ১৫৭ দিন বয়সে এই ইনিংস খেলে ফেলেন সুরিয়াভানশি, আর তাতেই দুলিপ ট্রফিতে ফিফটি করা সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারের রেকর্ড এখন তারই দখলে। এতদিন এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন লাক্সমান সিং।
৫৭ বছর আগে ১৯৬৯ সালে ১৬ বছর ২৩ দিন বয়সে ফিফটি করেছিলেন তিনি। এই তালিকায় এখন তৃতীয় স্থানে রয়েছেন পিয়ুষ চাওলা, যিনি ২০০৫ সালে ১৬ বছর ৩০৭ দিন বয়সে স্পর্শ করেছিলেন পঞ্চাশের ঘর।
ম্যাচের প্রথম দিন প্রতিপক্ষকে ২৬৬ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামে ইস্ট জোন। আভিমান্যু ইশ্বরনের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন সুরিয়াভানশি। প্রথম ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে রানের খাতা খোলা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় ওভারেই ইয়াশ ঠাকুরকে হাঁকান দুটি চার।
চতুর্থ ওভারে বল করতে আসা পেসার ইয়াশকে চারের পর ছক্কায়ও ওড়ান সুরিয়াভানশি। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রান বাড়াতে থাকা এই তরুণ ব্যাটসম্যানকে ৪০ রানের মাথায় আউট করার একটি সুযোগ অবশ্য হাতছাড়া করে সেন্ট্রাল জোন—ক্যাচ তুলে দিয়েও বেঁচে যান সুরিয়াভানশি।
পঞ্চদশ ওভারের শেষ বলে সারানশ জৈনকে ছক্কায় উড়িয়ে মাত্র ৪২ বলেই নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এরপর আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যেতে যেতে নব্বইয়ের ঘরেও পৌঁছে যান সুরিয়াভানশি। তার সামনে তখন সুযোগ ছিল দুলিপ ট্রফির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার, যা করতে পারলে ভেঙে যেত সাচিন টেন্ডুলকারের ৩৬ বছরের পুরনো এক রেকর্ডও। তবে মাত্র ৮ রানের আক্ষেপে সেই কীর্তি অধরাই থেকে গেল সুরিয়াভানশির জন্য।
হার্শ দুবের বলে ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টায় মিড উইকেট সীমানায় ধরা পড়ে গভীর আক্ষেপ নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয় তাকে। উল্লেখ্য, ১৯৯০-৯১ মৌসুমে ১৭ বছর ২৬২ দিন বয়সে ভারতের এই মর্যাদাপূর্ণ প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন কিংবদন্তি টেন্ডুলকার। আপাতত তার সেই রেকর্ডটি অক্ষতই রয়ে গেছে।
ডিসি/আপ্র/৩১/০৮/২০২৬