মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে স্পর্শ গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। জন্মের পর মাতৃক্রোড়ে শিশুর প্রথম আশ্রয় থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ধাপে স্পর্শ কেবল অনুভূতি নয়, বরং বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অনেক কষ্টের মুহূর্তে বা কান্নার মুহূর্তে কেউ জড়িয়ে ধরলে বা কাঁধে হাত রাখলে ভালো লাগে, আস্থা পাওয়া যায়।
বিজ্ঞানের চোখে স্পর্শের গুরুত্ব: স্পর্শ শুধু একটি অনুভূতি নয়, আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। জন্মের পর মায়ের শরীরের উষ্ণ স্পর্শ শিশুর শরীরের তাপমাত্রা, হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, যেসব শিশু পর্যাপ্ত স্পর্শ পায় না, তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। কারও সঙ্গে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে অক্সিটোসিন বা ভালোবাসার হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি মানসিক চাপ কমায় এবং মানুষের প্রতি বিশ্বাস ও আত্মিক বন্ধন দৃঢ় করে।
ছোঁয়ার অভাবে অসুখ: আমরা যখন দীর্ঘদিন মানবিক সান্নিধ্য বা স্পর্শ থেকে বঞ্চিত থাকি, তখন শরীর ও মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। পর্যাপ্ত স্পর্শের অভাব আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে স্পর্শবঞ্চিত মানুষ ছোঁয়াচে রোগে বেশি আক্রান্ত হন। নিয়মিত আলিঙ্গন বা স্পর্শ রক্তচাপ কমাতে এবং হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাজীবনে স্পর্শের প্রভাব: আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, একটি সাধারণ পিঠ চাপড়ানো বা করমর্দন আমাদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে। যেসব দলের খেলোয়াড়রা একে অন্যকে বেশি হাই-ফাইভ দেন বা আলিঙ্গন করেন, তাদের জয়ের হার অন্যদের চেয়ে বেশি। ক্লাসরুমে শিক্ষক যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাঁধে হাত রেখে উৎসাহ দেন, তাহলে সেই শিক্ষার্থীর শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। এমনকি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার যদি খদ্দেরের কাঁধে আলতো করে হাত রেখে কথা বলেন, তবে খদ্দের খুশি হয়ে বেশি বকশিশ দেয় বলে গবেষণায় প্রমাণিত।
স্পর্শ হলো হৃদয়ের ভাষা- যা শব্দের চেয়ে শক্তিশালী। এটি আমাদের সুরক্ষা দেয়, সাহস জোগায় এবং সুস্থ রাখে। তবে মনে রাখা জরুরি, স্পর্শের ক্ষেত্রে ‘সম্মতি’ বা কনসেন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন কাউকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরছেন, তখন তা যেন শুধু ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হয়। স্পর্শ কোনো বিলাসিতা নয়, মানুষের মৌলিক মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজন। প্রযুক্তি-
কেএমএএ/আপ্র/৩১.০৮.২০২৬