আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে চীনের মকিতে শুরু হতে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব-২০ জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ ও নারী দল সোমবার সম্পন্ন করেছে নিজেদের প্রথম ট্রেনিং সেশন। নতুন ভেন্যু ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও খেলোয়াড়দের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানকার তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়া। তবে দ্রুতই এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ইতিবাচক সূচনার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী রয়েছেন লাল-সবুজের এই প্রতিনিধিরা।
চীনে পৌঁছানোর পর সোমবার দুপুরে মূল ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো অনুশীলনে নামে বাংলাদেশ দল। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে আবাসন ব্যবস্থা, মূল ভেন্যু এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা নিয়ে উভয় দলের খেলোয়াড়রাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও দলের সবাই মানসিকভাবে বেশ চাঙ্গা রয়েছেন এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এই আবহাওয়ায় খেলতে গিয়ে শুরুতে কিছুটা বেগ পোহাতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের।
নারী দলের ফরোয়ার্ড নাদিরা তালুকদার ইমা প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, এখানকার পরিবেশ যথেষ্ট ঠান্ডা এবং প্রচুর বাতাস থাকায় শুরুর দিকে তাদের একটু খারাপ লাগছিল। তবে ধীরে ধীরে তারা এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন এবং জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি, পাশাপাশি সবার কাছে দোয়াও চেয়েছেন।
একই সুর শোনা গেছে পুরুষ দলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ আবদুল্লাহর কণ্ঠেও।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে তারা গরম আবহাওয়ায় ছিলেন, অথচ চীনে রোদ উঠলেও বেশ ঠান্ডা থাকে, আর রাতের বেলায় সেই ঠান্ডা আরও বৃদ্ধি পায়। ফিজিওর নির্দেশনা অনুসরণ করে তারা নিজেদের শরীরকে এই নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এর আগের বার চীনে খেলতে গিয়ে খাবার নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছিল বাংলাদেশ দল। তবে এবারের অভিজ্ঞতা একেবারে ভিন্ন বলে জানিয়েছেন আবদুল্লাহ। তার ভাষ্যমতে, অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে এর আগে যখন তিনি এসেছিলেন, তখন খাওয়া-দাওয়া নিয়ে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল।
তবে এবার সবকিছুই ঠিকঠাক আছে এবং তারা যতটুকু প্রত্যাশা করেছিলেন, তার চেয়ে অনেক ভালো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। নতুন মাঠ নিয়েও নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেছেন এই ফরোয়ার্ড। পাশাপাশি স্পষ্ট করেছেন দলের মূল লক্ষ্যের কথাও। তার ভাষায়, মাঠটি তাদের কাছে বেশ ভালো লেগেছে এবং তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা।
স্বাগতিক চীনের বিপক্ষেই নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ পুরুষ দল। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি ও মনোভাবের কথা স্পষ্ট করে আবদুল্লাহ বলেন, যেহেতু প্রথম ম্যাচটি চীনের বিপক্ষে এবং তাদেরই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, তাই কোনো পক্ষই কাউকে ছাড় দেবে না। ম্যাচটি হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের, আর তারা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবেন যেন প্রথম ম্যাচটিতে নিজেরাই জয় ছিনিয়ে আনতে পারেন। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের এই যুব প্রতিনিধিরা।
ডিসি/আপ্র/৩১/০৮/২০২৬