সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এ বেতন কাঠামো কার্যকর ধরা হয়েছে এবং তিন ধাপে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো ও ভাতা-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। নতুন পে-স্কেলেও সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এ গ্রেডে বেতন বেড়েছে ১৪২ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে, যা ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি।
নবম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা হয়েছে। বিসিএসের মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে যারা সরকারি চাকরিতে যোগ দেন, তাদের বেতন এ গ্রেডে নির্ধারিত হয়। প্রথম গ্রেডে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা বেতন পান।
নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও পুনর্র্নিধারণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বেতন কাঠামোও অনুমোদন করা হয়েছে।
তিন ধাপে বাস্তবায়ন: অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুবিধা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ২০তম থেকে ১০ম গ্রেডকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্র্নিধারণের দাবি ও আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল। প্রায় এক দশক পর নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলল।
সানা/আপ্র/৩১/৮/২০২৬