গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

শিল্পকলায় পাঁচদিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির উত্থান ঠেকাতে প্রয়োজন রবীন্দ্রনাথের আলো

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:২১ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১৬ এএম ২০২৬
প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির উত্থান ঠেকাতে প্রয়োজন রবীন্দ্রনাথের আলো
ছবি

শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনের জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী -ছবি সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, সম্প্রতি দেশে প্রতিক্রিয়াশীল, মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর যে উত্থান ঘটছে, তার পেছনে রয়েছে লোভ ও শক্তির লড়াই। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীগুলোর এই উত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং তা সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের যে সংকট, তারই একটি বহিঃপ্রকাশ। এ সংকট কাটাতে প্রয়োজন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবিক আন্দোলন। বিশ্বকবি তাঁর জীবনাদর্শে যে আলোর পথ দেখিয়েছেন, সংকট কাটাতে সেই আলো খুঁজে নিতে হবে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনের জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনের উদ্বোধনীতে এ কথাগুলো বলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সম্মেলনের আয়োজক ‘জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ’। প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে আজ এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এটি সম্মিলন পরিষদের ৪৪তম বার্ষিক অধিবেশন।

প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলোকে মানবসভ্যতার জন্য হুমকি বলে সম্মেলনে উল্লেখ করেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, এই শক্তিগুলো মানুষের যে শাশ্বত সংস্কৃতি, মানুষের যে হাজার বছরের ঐতিহ্য, তাকে ধ্বংস করতে চায়। তারা চায় মানুষকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে। এই অন্ধকার থেকে বাঁচার জন্য রবীন্দ্রনাথের যে আলো, সেই আলো আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

রবীন্দ্রনাথকে শুধু কবি হিসেবে নয়, বরং তাঁর দর্শনের মাধ্যমে চেনার আহ্বান জানান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের এই যে জীবনদর্শন, তাঁর যে রাজনৈতিক সচেতনতা, সে জায়গাকেও ধারণ করতে হবে। তিনি চেয়েছিলেন, একটি শোষণমুক্ত ও মানবিক বিশ্ব গড়ে উঠুক, যেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদের যে নিষ্ঠুর প্রসার, সেটা রবীন্দ্রনাথের সময় থেকে শুরু হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, সভ্যতার এই যে সংকট, তা আজও কাটেনি; বরং সংকটের চেহারা আরো ভয়াবহ হয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় জীবন ও মুক্তির সংগ্রামে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব তুলে ধরেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে রবীন্দ্রনাথের গান আমাদের প্রেরণা দিয়েছে। আমাদের যে জাতীয় সংগীত, সেটিও রবীন্দ্রসংগীত। কাজেই রবীন্দ্রনাথ আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন।’

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলন পরিষদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বর্তমানে ধর্মের নামে ধর্মান্ধতা দিয়ে, ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে নানাভাবে সমাজকে আক্রান্ত করা হচ্ছে বলে সম্মেলনে মন্তব্য করেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি মফিদুল হক। তিনি বলেন, এই সবকিছু থেকে বের হয়ে আসার জন্য অবশ্যই সংস্কৃতিকে আরো দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে হবে। বাংলার সংস্কৃতি সর্বাংশে অসাম্প্রদায়িক। তাই সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সংগীতের গুরুত্ব উল্লেখ করেন মফিদুল হক। তিনি বলেন, কী করে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে সংগীতকে আরো নিবিড়ভাবে যুক্ত করা যায়, সেটাকে বাস্তবায়ন করা যায়, আর সেখানে সমাজ কীভাবে তার দায়িত্ব ও অংশীদারত্ব গ্রহণ করতে পারে, তা নিয়ে আবার নিবিড়ভাবে ভাবতে হবে।

‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’ গানটির মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের নির্বাহী সদস্য ত্রপা মজুমদার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি বুলবুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম। পরিষদের লক্ষ্য ও আদর্শ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বাঙালির সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক একটি সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করছেন।

লিলি ইসলাম বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের চেতনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। কিন্তু আমরা কেবল রবীন্দ্রসংগীতে সীমাবদ্ধ নই; বাঙালির যে বিশাল সংগীতের ঐশ্বর্য, তা লোকসংগীত হোক, নজরুলসংগীত হোক কিংবা পঞ্চকবির গান-সবকিছুকেই আমরা আমাদের অন্তরে লালন করি।’

সম্মেলন চলবে শুক্র ও শনিবার। শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় প্রদীপ প্রজ্বালন, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, আবৃত্তি ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

সম্মেলন উপলক্ষে দেশজুড়ে সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শুক্রবার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ৫০ জন শিল্পী অংশ নেন। সাধারণ ও কিশোর-এ দুই বিভাগে প্রতিযোগিতা হয়। বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হবে আজ শনিবার।

এদিন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে প্যানেল আলোচনা, রবীন্দ্রপদক ও গুণীসম্মাননা, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান ও আবৃত্তি।

পাঁচ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা: চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে ৫ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। 
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার অনুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত।
ঢাকঢোল বাদন, লাঠি খেলা, ঘুড়ি উড়ানো ও লাটিম খেলা দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হবে।  এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে থাকছে জারিগান, পটের গান, বাউল গান, পুঁথি পাঠ, কবিগান, গাজির গান, গম্ভীরা, জালালগীতি, ভাওয়াইয়া, বাউল গান, বিভিন্ন সংগঠনের সমবেত নৃত্য, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পী, যন্ত্রশিল্পী ও নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা, তারকা শিল্পীদের পরিবেশনা ও ব্যান্ড সংগীত, ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী  সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে।
শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে অনুষ্ঠান সূচিতে থাকবে, রহিম বাদশা রূপবান কন্যা, পুতুলনাট্য পরিবেশনা বাছেরের বিয়ে। থাকছে অ্যাক্রোব্যাটিক প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। অন্যদিকে, বাংলাদেশের লোকশিল্প প্রদর্শনী ও লোকশিল্প কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হবে। 
সানা/আপ্র/১০/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ব্যাটারিচালিত রিকশায় খাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ
১০ এপ্রিল ২০২৬

ব্যাটারিচালিত রিকশায় খাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ

চার্জে প্রতিদিন ব্যয় ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট

ইতিহাসের পথে ঐতিহ্যের ইলিশ
০৯ এপ্রিল ২০২৬

ইতিহাসের পথে ঐতিহ্যের ইলিশ

বৈশাখ ঘিরে উত্তপ্ত বাজার

দুর্ঘটনাকে জয় করে ফ্রিল্যান্সিংয়ে মাসে দেড় লাখ টাকা আয়
০১ এপ্রিল ২০২৬

দুর্ঘটনাকে জয় করে ফ্রিল্যান্সিংয়ে মাসে দেড় লাখ টাকা আয়

হুইলচেয়ারের চাকা থেকে সাফল্যের ডানা

উদীচীতে কী ঘটছে?
২৯ মার্চ ২০২৬

উদীচীতে কী ঘটছে?

প্রগতিশীল আর প্রতিক্রিয়াশীলে বিভক্ত

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

এবারের ঈদযাত্রাকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বস্তিদায়ক বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মন্ত্রীর এই দাবি ঠিক আছে বলে মনে করেন?

মোট ভোট: ৩ | শেষ আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে