রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনকে বহাল রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান কেন এমন—তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা উচিত।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আজহারুল ইসলাম বলেন, “এত বড় বিএনপির দল, তাকে এত পছন্দ হয় কেন? তাহলে কি কোথাও থেকে ইঙ্গিত পেয়েছেন, তাকে রাখতে হবে। আমরা জানি না। জনগণের কাছে আপনারা খোলসা করুন।”
তিনি আরও বলেন, “চার মাস আপনারা একজন লোক খুঁজে পেলেন না যে প্রেসিডেন্ট কে হবে? আপনার ফ্যাসিস্ট সরকারের লোক পছন্দ হয়, তাকেই রাখার চেষ্টা করতেছেন।”
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট যদি নির্মূল করতে চান, ফ্যাসিস্টের সবকিছুর চিহ্ন মুছে ফেলুন। প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত প্রেসিডেন্টকে কেন্দ্র করে সিদ্ধান্ত। আপনাদের দলের প্রেসিডেন্টকে আপনারা নিজেরাই ঠিক করুন।”
রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে এই মন্তব্যের পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক শূন্যতা ও দল নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হলে দেশে রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আমি শুধু একটা কথা বলতেছি, নিষিদ্ধের মাধ্যমে ধরলাম আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম, এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ হলে সেই রাজনৈতিক শূন্যতা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পথ তৈরি করবে কি না।
জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, দলটির সাবেক শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ছিল এবং তাদের ‘মিথ্যা মামলা সাজিয়ে’ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি যাদের হাত ধরে আমি আমার দলের কাজ শুরু করি, সেই দলের নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলী—তাদের অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।”
তিনি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বাজেট আলোচনায় তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি।
তিনি বলেন, “বিগত ৫৪ বছর ধরে দেখেছি, যত সুন্দর কথার ফুলঝুরি হোক না কেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি, দুর্নীতি এবং দুর্নীতি।”
তিনি সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে শরিয়াহভিত্তিক বিকল্প ‘সুকুক’ চালুর প্রস্তাব দেন এবং বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে সুদনির্ভর ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
এ টি এম আজহার আরও বলেন, বাজেটের বড় অংশ পরিচালন ব্যয়ে চলে যাচ্ছে এবং এর মধ্যে সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।
তিনি দাবি করেন, ধীরে ধীরে সুদমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত।
এর বাইরে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুরের তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং ঢাকায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আহ্বান রাখেন।
সানা/আপ্র/২৮/৬/২০২৬