২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—ডাকসু নির্বাচনের সাত বছর পাঁচ মাস পর সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রাশেদ খাঁনকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। ওই নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া রাশেদ খাঁনকে এই পদে ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিল কর্মসূচির ছাত্রত্ব বাতিল করে। বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তাঁর ছাত্রত্ব অবৈধ প্রমাণিত হওয়ার পর সিন্ডিকেটের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশেরও সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় তাঁর ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ডাকসুর জিএস পদও বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁনও বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি লেখেন, গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর ডাকসুর পদ বাতিল করা হয়েছে এবং ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া তাঁকে জিএস ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
২০১৯ সালের ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে জিএস পদে ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে গোলাম রাব্বানী বিজয়ী ঘোষণা হয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ খাঁন পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৬৩ ভোট। অর্থাৎ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন তিনি।
সাত বছর পাঁচ মাস পর সেই নির্বাচনের ফলের জিএস পদে পরিবর্তন এলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ২০১৯ সালের ডাকসুর জিএস হিসেবে রাশেদ খাঁনের নামই কার্যকর হলো।
২০১৯ সালের ওই ডাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি পদে জয়ী হয়েছিলেন নুরুল হক নুর। তিনি পেয়েছিলেন ১১ হাজার ৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সে সময়ের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন; তিনি পেয়েছিলেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।
ডাকসুর ইতিহাসে দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে ওই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে শুরু থেকেই ব্যাপক আগ্রহ ছিল। নির্বাচনের সাত বছরের বেশি সময় পর একজন প্রার্থীর ছাত্রত্ব বাতিলের সূত্র ধরে জিএস পদে নতুন সিদ্ধান্ত সেই পুরোনো নির্বাচনকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
রাশেদ খাঁন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার পরও এতদিন তিনি জিএস পদে দায়িত্ব পাননি। গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব ও ডাকসু পদ বাতিলের পর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের নতুন সিদ্ধান্তে এবার সেই নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতেই তাঁর জিএস পদ নিশ্চিত হলো।
সানা/আপ্র/১/৯/২০২৬