গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ইরানকে ‘মৃত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বললেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০১ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০১:৪৯ এএম ২০২৬
ইরানকে ‘মৃত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বললেন ট্রাম্প
ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন করে আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তাঁর এই মন্তব্য আসে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা পর। ওই হামলায় ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে। এর জবাবে ইরান জর্ডানে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা দুটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে বলেন, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র এবং দেশটি কার্যত মৃত। তাঁর দাবি, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কার্যকর অবস্থায় নেই, মুদ্রার মূল্য ভেঙে পড়েছে, সেনা ও পুলিশকে বেতন দেওয়ার সক্ষমতা দেশটির নেই এবং মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির নেতৃত্বকে তিনি বিশৃঙ্খল ও দেশের যথাযথ প্রতিনিধিত্বে অক্ষম বলেও মন্তব্য করেন।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, বিক্ষোভে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরানের নেতাদের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। তবে এই সংখ্যার স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ তিনি দেননি। ইরান সরকার নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ১১৭ জন বলে জানিয়েছে এবং নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন বলে দাবি করেছে। তেহরানের ভাষ্য, বিক্ষোভ ও সহিংসতার পেছনে ইসরায়েল-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা ছিল।

বিক্ষোভকারী নিহতের সংখ্যা নিয়ে ট্রাম্প এর আগেও বড় ধরনের দাবি করেছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি ইরানে প্রায় ৬০ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার কথা বলেছিলেন। এবার সেই সংখ্যা এক লাখের বেশি বলে উল্লেখ করলেও নতুন হিসাবের উৎস বা ভিত্তি স্পষ্ট করেননি।

ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের এমন কঠোর বক্তব্য এসেছে সংঘাতের নতুন উত্তেজনাপূর্ণ পর্বের মধ্যে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সদস্যরা হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং সেগুলো বহনের জন্য রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা প্রস্তুত করছিল। এ কারণেই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরান অবশ্য মার্কিন ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় ইরানি যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। হামলার জবাব দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে তারা। এরপরই জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

সোমবার ট্রাম্প ইরানের ওই পাল্টা হামলারও জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর ফলে কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। প্রণালিতে নৌ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও দামের ওপর আরো চাপ তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। ইসরায়েলও এই সংঘাতে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন অবস্থানগুলোর বিরুদ্ধে। ফলে সংঘাতের প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যেই ট্রাম্পের ‘মৃত ও ব্যর্থ রাষ্ট্র’ মন্তব্য এবং নতুন করে পাল্টা হামলার হুমকি সংঘাতের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে। তবে ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো টিকে আছে এবং দেশটির বিপ্লবী গার্ড সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে আসছে। তেহরানের দাবি, চলমান সংঘাতে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সংঘাতের প্রথম দিকে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগও করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাদের সামরিক অভিযানকে নিরাপত্তা ও সামরিক লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে।

ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের পর প্রশ্ন এখন একটাই—এই সংঘাত কি আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেবে, নাকি নতুন কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে? হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এর উত্তর শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সানা/আপ্র/১/৯/২০২৬ 
 

সংশ্লিষ্ট খবর

নেপাল-তিব্বতে বন্যায় মৃত্যু ৯১৯, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০
৩১ আগস্ট ২০২৬

নেপাল-তিব্বতে বন্যায় মৃত্যু ৯১৯, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়ি...

আবুধাবির নিলামে বাজপাখির ছানার দাম ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা
৩১ আগস্ট ২০২৬

আবুধাবির নিলামে বাজপাখির ছানার দাম ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আন্তর্জাতিক শিকার ও অশ্বারোহণ প্রদর্শনীতে একটি বিরল প্রজাতির সাদা বাজ...

পাকিস্তানে ৪০ শতাংশ শিশু খর্বকায়, অপুষ্টিতে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি
৩১ আগস্ট ২০২৬

পাকিস্তানে ৪০ শতাংশ শিশু খর্বকায়, অপুষ্টিতে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি

পাকিস্তানে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু খর্বকায়। ফলে দেশটির তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ কর্...

ইসলামকে শ্রেষ্ঠ বলায় কর্ণাটকে হিন্দু মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
৩১ আগস্ট ২০২৬

ইসলামকে শ্রেষ্ঠ বলায় কর্ণাটকে হিন্দু মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

ইসলামকে অন্য ধর্মের চেয়ে ‘শ্রেষ্ঠ’ বলে মন্তব্য করায় কর্ণাটকের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসভরাজ রায়ারেড্ডির...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই