রাত তখন পৌনে ১০টা। দাপ্তরিক কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি নাহিদ। পথে ব্র্যাক কার্যালয়ের সামনে হঠাৎ একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত করা হয়। কেড়ে নেওয়া হয় ওষুধ বিক্রির প্রায় ৩ লাখ টাকা। এরপর হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশের নির্জন ঝোপে ফেলে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।
গত শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মেছাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত নাহিদ রেনেটা ফার্মা লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নের বগা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাপ্তরিক কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন নাহিদ। মেছাঘোনা ব্র্যাক কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে একদল সশস্ত্র ছিনতাইকারী তাঁর পথরোধ করে। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
হামলার পর তাঁর কাছে থাকা ওষুধ বিক্রির প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর নাহিদের হাত-পা শক্ত করে বেঁধে রাস্তার পাশের একটি ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
ঝোপে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার
ছিনতাইকারীরা চলে যাওয়ার পর রাতের নির্জন সড়কে পড়ে ছিল নাহিদের মোটরসাইকেলটি। চুকনগর থেকে ডুমুরিয়ার দিকে ফেরার পথে স্থানীয় স্বর্ণকার ও কবি তুষার দত্ত সেটি দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি মোটরসাইকেলের আশপাশে খোঁজ করতে থাকেন।
একপর্যায়ে রাস্তার পাশের ঝোপে হেলমেট পরা ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে দেখতে পান তিনি। কাছে যেতেই নাহিদ সাহায্যের জন্য আকুতি জানান। পরে তুষার দত্ত আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে তাঁর হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দেন।
উদ্ধারের পর নাহিদ স্থানীয়দের কাছে তাঁর ওপর হামলা ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা জানান। খবর দেওয়া হয় ডুমুরিয়া থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত নাহিদকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
পুলিশের একাধিক দল মাঠে
ঘটনার খবর পেয়ে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় রাতের সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সানা/আপ্র/১/৯/২০২৬