প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বনজ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, জলদস্যু ও বনদস্যু দমন, জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমুদ্র ও নৌপথে অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বাহিনীটি জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এই ধারাবাহিকতায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকা, মোংলা বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধ, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং দুর্যোগকালে মানবিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যু ও বনদস্যু বিরোধী অভিযানে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম, ৪৪৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ডাকাতদের কবল থেকে ৫২ জন নারী-পুরুষকে মুক্ত করা হয় এবং ৪৯ জন ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ হাজার ৬৭৪ পিস ইয়াবা, ১৩ কেজি গাঁজা এবং ১ হাজার ২৫৬ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ৫১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়।
বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে ৮২৪ কেজি হরিণের মাংস, হরিণের বিভিন্ন অঙ্গ এবং ৬০০টি ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়। পাশাপাশি ১ হাজার ৪০০ পিসের বেশি গেওয়া ও গড়ান কাঠ, ২টি তক্ষক, ৬২টি কচ্ছপ এবং ৩ হাজার ৪০০ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়। অবৈধ মৎস্য আহরণবিরোধী অভিযানে প্রায় ১৪৭৩ কোটি টাকা মূল্যের ১২ কোটি মিটারের বেশি অবৈধ জাল এবং ১২০ কোটি টাকা মূল্যের রেণুপোনা ও ১৪ হাজার কেজি জেলি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চলতি বছরে ২ হাজারের বেশি দুস্থ, অসহায় ও শিশুকে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন পরিবার কল্যাণ সংঘের উদ্যোগে ৫০০ জনের বেশি দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলে ও সাধারণ জনগণকে পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, অগ্নিনির্বাপণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উপকূলীয় এলাকায় প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং সদস্যদের নির্বাচনভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের সফরকালে নৌপথে নিরাপত্তা প্রদান এবং সুন্দরবনে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্ট গার্ড নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বন বিভাগ ও মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের জানমাল রক্ষা, বন্দর নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৬/৪/২০২৬