দেশের সাত জেলায় রোববার (২৬ এপ্রিল) বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে একজন মারা গেছেন। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহের পর রোববার ঢাকাসহ রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ছিল বজ্রপাত। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-
গাইবান্ধা: গাইবান্ধা জেলায় বিকেলে বজ্রপাতে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা গ্রামে তিনজন, ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়াবাড়ি গ্রামে একজন ও সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের একজন রয়েছেন। তারা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), একই গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি চৌধুরী (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান মিয়া (২০), ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫) ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নম্বার আলী (৬৫)। অন্যদিকে দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতের ঘটনায় শামীম মিয়া আহত হয়েছেন। এ ছাড়া একটি গরু মারা গেছে।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় মৌসুমের প্রথম ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন। বিকেলে রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে ও তাড়াশ উপজেলার বেত্রাশীন গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া একজন হলেন রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামের আবদুল হালিম সেখের ছেলে হোসেন আলী সেখ (২৫)। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন। অন্যজন হলেন তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে আবদুল হামিদ (৫০)।
জামালপুর: জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একজন ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ রাজীবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২) ও সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার হাবিব মণ্ডলের ছেলে হাসমত আলী (৪৫)। আর আহত ব্যক্তিরা হলেন মেলান্দহের হাজরাবাড়ী এলাকার হারুন মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম (২৫), সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার নুর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৪) ও একই এলাকার মোহাম্মদ রুমান মিয়ার ছেলে মো. শাওন মিয়া (২৫) এবং সদর উপজেলার নাওভাঙ্গা এলাকার সুমন মিয়ার মেয়ে সুখী (১৪)। তাদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে চা-শ্রমিক মো. সোহরাওয়ার্দীর (২২) মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকায় একটি চা-বাগানের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩) নামের আরও দুই চা-শ্রমিক। তাদের মধ্যে মো. মোস্তফাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারা যাওয়া সোহরাওয়ার্দী ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকার আবদুস সামাদের ছেলে। তিনি মাত্র আট দিন আগে বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে।
নাটোর: নাটোরের সিংড়ায় বজ্রপাতে ধানকাটা শ্রমিক সম্রাট হোসেনের (২৬) মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সম্রাট হোসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে।
বগুড়া: বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বজ্রপাতে কৃষক সুমনের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ বজ্রপাতের ঘটে। মারা যাওয়া সুমন মুচিখালী গ্রামের মো. আবদুল করিমের ছেলে।
সানা/আপ্র/২৬/৪/২০২৬