রাজধানীর আদাবরে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ফটোগ্রাফার নামীন আশরাফ মনি ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫–এ নিহত সাদিয়া ইয়াসফিয়ার (২৪) বড় বোন রাজিয়া সুলতানা মামলাটি করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক মো. মনিরুজ্জামান গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালে একটি অনুষ্ঠানের শুটিংয়ে মেকআপ আর্টিস্ট সাদিয়া ইয়াসফিয়ার সঙ্গে ফটোগ্রাফার নামীন আশরাফ মনির পরিচয় হয়। পরে একাধিক কাজে একসঙ্গে অংশ নিতে গিয়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ের বিষয়ে দুই পরিবারও অবগত ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুন সাদিয়ার পরিবারের সদস্যরা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে নামীনের গেন্ডারিয়ার বাসায় গেলে তার বাবা-মা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং এ বিষয়ে চাপ দিলে পরিণতি ভালো হবে না বলে হুমকি দেন।
মামলায় আরো বলা হয়, ১০ জুন রাতে নামীন সাদিয়াকে আদাবরের শেখেরটেক এলাকার একটি স্টুডিও-ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলতে বাধ্য করা হয়। এরপর ১০ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং ১৪ জুন হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন নামীন। এছাড়া পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি।
এসি/আপ্র/২৮/০৭/২০২৬