যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজ অনুষ্ঠান চলাকালে বন্দুকধারীর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ উপস্থিত উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ৮টা ৩৫ মিনিটে হিলটন হোটেলের ভেতরে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে উপস্থিত অতিথিরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকেন। সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত হস্তক্ষেপ করে প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের বলরুম থেকে সরিয়ে নেয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি হোটেলের লবিতে সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে দ্রুত প্রবেশ করেন। তাঁর কাছে শটগান, হ্যান্ডগান ও একাধিক ছুরি ছিল বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় একজন সিক্রেট সার্ভিস সদস্য আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে গোলাগুলিতে তাঁর গুরুতর আঘাত লাগেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিযুক্তকে মাটিতে ফেলে আটক করতে সক্ষম হন। পরে তাঁর হাতকড়া পরানো হয়।
ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করে পরে পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি এককভাবে সংঘটিত হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ সহিংস হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ: বন্দুকধারীর হামলায় তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত থাকলেও তিনি অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনার সময় অতিথিরা হোটেলের ভূগর্ভস্থ বলরুমে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা গেলে উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা ৫ থেকে ৮টি গুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। বন্দুকধারী ব্যক্তি হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করে বলরুমের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত তাকে ঘিরে ফেলে এবং হেফাজতে নেয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হলেও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত থাকায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান এবং বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হোটেলের ভেতরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয় এবং উপস্থিত সবাইকে দ্রুত বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১), তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্স এলাকার বাসিন্দা। তার কাছে একটি শটগান, একটি হ্যান্ডগান এবং কয়েকটি ছুরি পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হোটেলের একজন অতিথি হিসেবেই অবস্থান করছিলেন এবং সেভাবেই ভেতরে প্রবেশ করেন। পেশাগতভাবে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী বলে জানা গেছে। তাকে নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা ও হামলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।
ঘটনাটি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ওয়েজিয়া জিয়াং সংকটময় পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠানটি পুনরায় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং তা আরো নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হামলাকারীর উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেছেন, তার বিরুদ্ধে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে। এফবিআই ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলির খোসা পরীক্ষা করছে। ওয়াশিংটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হামলাকারী একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং বর্তমানে জননিরাপত্তার জন্য নতুন কোনো হুমকি নেই।
ঘটনার পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে এসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, প্রথমে তিনি শব্দটিকে অন্য কিছু মনে করলেও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প দ্রুত বুঝতে পারেন এটি গুলির শব্দ। তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর পরামর্শে তাকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা না গেলেও ট্রাম্প বলেছেন, এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো ইস্যুর সরাসরি যোগসূত্র এখনো পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে একই হোটেলের বাইরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের ওপর হামলার পর এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই ঘটনা আবারো উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সানা/আপ্র/২৬/৪/২০২৬