কুমিল্লা নগরের কোটবাড়ী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এক হোটেলের নিকট থেকে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে। এ ঘটনায় তাঁর মা নীলিমা বৈরাগী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া (বাবুপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির কারণে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তাঁর একমাত্র সন্তান ও স্ত্রী ওই বাসায় থাকতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে তিনি কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। এর আগে তিনি রাঙামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় হয়ে বাসে ওঠেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিক যোগাযোগ ছিল। পরে ভোরের দিকে ফোনে অস্বাভাবিক কথাবার্তা শোনা গেলে পরিবারের সন্দেহ বাড়ে।
গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে কোটবাড়ী এলাকার পাশে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কুমিল্লা কার্যালয়ে নেওয়া হলে সহকর্মীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
স্ত্রী উর্মি হীরা বলেন, তাঁর স্বামীর সঙ্গে কী ঘটেছিল তা তিনি জানতে চান। একই সঙ্গে মা নীলিমা বৈরাগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক কষ্টে বড় করা ছেলের মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।
বুলেট বৈরাগীর এক বছরের সন্তান অব্যয় বৈরাগীর জন্মদিন ঘিরে পরিবারের মধ্যে আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল বলেও জানা যায়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই আনন্দ শোকের ছায়ায় পরিণত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে একাধিক দল কাজ করছে। মরদেহের পাশে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি বলেও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের আশা করছে পুলিশ।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৬/৪/২০২৬