গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

মেনু

শুল্কমুক্ত সুবিধায় সৌরবিদ্যুৎ উপকরণ আমদানিতে কমবে বিদ্যুৎ খরচ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:২১ পিএম, ১১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৮:২৯ এএম ২০২৬
শুল্কমুক্ত সুবিধায় সৌরবিদ্যুৎ উপকরণ আমদানিতে কমবে বিদ্যুৎ খরচ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা গেছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানিতে আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর তুলে দিয়েছে সরকার। এতে করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমতে পারে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তৃতায় এমন ঘোষণা দেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ‘নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ উৎস সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রসারে এই খাতসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণসমূহ আমদানিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ করে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রস্তাব করছি।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুল্ক তুলে দিতে যে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এতে গড়ে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক থেকে রেহাই পাবে সৌরবিদ্যুৎ খাত। এর মধ্য দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিনিয়োগে ইতিবাচক সাড়া তৈরি হবে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন ধারা শুরু হবে। প্রতি মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অন্তত ৬০ জনের কর্মসংস্থান তৈরি হয়। এখন এ খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। এতে আগামী পাঁচ বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতে পারে।

সরকারের এমন নীতিগত সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউবেল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এতে নবায়নযোগ্য খাত নিয়ে সরকারের আন্তরিকতা পরিষ্কার হয়েছে। টেকসই উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানির আপাতত বিকল্প নেই। এখন শিল্প বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে, বাসায়ও অনেকে আগ্রহী হবেন।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে শুল্ক-কর তুলে দেওয়ার রেয়াতি সুবিধা আগামী ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত বলবৎ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেট বক্তৃতায়। এই খাতের ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে এমন প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম ইত্যাদি পণ্যগুলোর রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুনের পর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। দেশে এই খাতসংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে এটি প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি উৎপাদনকারী শিল্পে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির কথা বলা হয়েছে বাজেট বক্তৃতায়। এতে বলা হয়, দেশে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারি এবং লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে চায় সরকার। তাই এ ধরনের পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতির সুবিধা প্রদান করে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেট বক্তৃতায়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিকে সুবিধা দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রবণতা থেকে সরে এসেছে সরকার। শুল্ক তুলে দেওয়া বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। কিছু পণ্যে দুই বছর পর রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার না করে অভ্যন্তরীণ শিল্প গড়ে ওঠা পর্যন্ত রাখা যৌক্তিক হবে। দুই বছর পর তুললে বিনিয়োগ নিরুৎসাহী হতে পারে। এটি পাঁচ বছর পর্যন্ত রাখা যেতে পারে।

আপ্র/কেএমএএ/১১.০৬.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

খুলনার কয়রায় আম খেয়ে পাঁচজনের ডায়রিয়া, নারীর মৃত্যু
১১ জুন ২০২৬

খুলনার কয়রায় আম খেয়ে পাঁচজনের ডায়রিয়া, নারীর মৃত্যু

খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ি গ্রামে আম খাওয়ার পর একই পরিবারের পাঁচ সদস্য ডায়রিয়ায় আ...

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
১১ জুন ২০২৬

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। বৃহস্পতিবা...

ঋণ, ঘাটতি ও চাপে ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট
১১ জুন ২০২৬

ঋণ, ঘাটতি ও চাপে ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট

জাতীয় সংসদে উপস্থাপন আজ

সম উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসনে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
১১ জুন ২০২৬

সম উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসনে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

সংসদে উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন ও বিরোধী দলের বিষয়ে বক্তব্য

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেদনের ভিত্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে টিআইবির প্রতিক্রিয়া

টিআইবির প্রতিবেদন শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে প্রণীত হয়-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, গবেষণা প্রতিবেদনকে ঢালাওভাবে পত্রিকার কাটিং-নির্ভর বলা মূল বিষয়কে পাশ কাটানোর ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া কিছু নয়। আপনি কি মনে করেন যে, টিআইবির এই বিবৃতি যৌক্তিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে