আবু তাহের, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাস্তা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রথম ফটক থেকে ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত সড়কের পশ্চিম পাশের গাছ অপসারণের পরিকল্পনাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রমের নামে পরিবেশের ক্ষতি না করার দাবিতে রোববার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে গাছের সংখ্যা এমনিতেই সীমিত। কয়েকদিন আগে কদমতলা থেকে দ্বিতীয় ফটক পর্যন্ত নির্মাণাধীন ফুটপাতের পাশের বেশ কয়েকটি গাছ অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে স্থানান্তরের পর অনেক গাছই টিকে থাকার সংকটে রয়েছে। বড় গাছ স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে। তাই নতুন করে আর কোনো গাছ অপসারণ না করে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিকল্প পাশে নির্মাণকাজ করার দাবি জানান তারা।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান লেলিন বলেন, “আমরা টেকসই উন্নয়ন চাই, তবে সেটি অবশ্যই প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়েই হতে হবে। বৃক্ষনিধন করে কোনো উন্নয়ন আমরা চাই না। আমরা যে মানববন্ধন করছি, সেটিও গাছের ছায়াতলে দাঁড়িয়ে। তাই প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। দেশের উন্নয়নেও প্রকৃতি সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়েও সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা উচিত।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ঐশ্বর্য হৃদয় বলেন, উন্নয়ন প্রয়োজন, কিন্তু তার ফলে পরিবেশের ক্ষতি যেন না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন যদি গাছ যথাযথভাবে স্থানান্তর করে তাদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করে থাকে, তাহলে তা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। “বৃক্ষনিধনের বিনিময়ে আমরা কোনো উন্নয়ন চাই না,” বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় রয়েছে। তবে গাছ কাটা আর স্থানান্তর করা এক বিষয় নয়। যদি এমন কোনো বিকল্প থাকে, যাতে গাছ রেখেই রাস্তা নির্মাণ সম্ভব হয়, তাহলে সে বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব।”
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ক্যাম্পাসের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা উপাচার্যের দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসকে আরও পরিকল্পিত ও নান্দনিকভাবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। এ কারণে বিক্ষিপ্তভাবে থাকা কিছু গাছ অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। “কোনো গাছই নিধন করা হয়নি। স্থানান্তরের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে নতুন ও বড় প্রজাতির গাছের চারা রোপণের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে,” বলেন তিনি।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এর আগেও নির্মাণকাজের অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুদ্বীপ এলাকায় ৫০টির বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই বর্তমান পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের প্রতি নকশা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সানা/আপ্র/২৭/৭/২০২৬