নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৭ পুনর্নির্ধারণ হওয়ায় অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ নারী দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করতে হয়েছে। ওই সময়সীমায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে নিউজিল্যান্ড, এরপর মার্চে ক্যানবেরা ও মেলবোর্নে আরও তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলতে আবারও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে তারা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালের উদ্বোধনী নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, যা শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, জুন–জুলাই থেকে সরিয়ে ফেব্রুয়ারিতে দুই সপ্তাহের মধ্যে আয়োজিত হবে। এই পরিবর্তনের কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের নারী দলের ঘরোয়া সূচি পুনর্বিন্যাস করেছে।
বাংলাদেশ নারী দল আগে অক্টোবরের ৯ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত ব্রিসবেন ও সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি একদিনের ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। তবে একদিনের ম্যাচগুলো বহাল থাকলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজটি বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড নারী দলের অস্ট্রেলিয়া সফরও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আগে ফেব্রুয়ারি–মার্চে সিরিজ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তারা অক্টোবরের ১৮, ২০ ও ২২ তারিখে সিডনিতে তিনটি টি–টোয়েন্টি খেলবে—যে তারিখগুলো আগে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ছিল। এরপর তারা মার্চের ৬, ৮ ও ১০ তারিখে ক্যানবেরা ও মেলবোর্নে তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে।
মার্চের ৮ তারিখের ম্যাচটি হবে জাংশন ওভালে আলোতে খেলা প্রথম আন্তর্জাতিক নারী ম্যাচ, যেখানে সম্প্রতি ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে। একই দিনটি মেলবোর্নে সরকারি ছুটির দিন এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবেও পালিত হবে। এই দুই ম্যাচ ১১ থেকে ১৫ মার্চ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য পুরুষদের দেড়শতম বার্ষিক টেস্টের আগে অনুষ্ঠিত হবে।
একদিনের ম্যাচগুলোর আগের সূচি (১, ৫ ও ৭ মার্চ) পরিবর্তন করে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরার পর দলগুলো পর্যাপ্ত সময় পায়। আগের পরিকল্পনায় ম্যাচগুলো অ্যাডিলেড ও মেলবোর্নে হওয়ার কথা ছিল।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সূচি ও ক্রিকেট কার্যক্রম বিভাগের প্রধান পিটার রোচ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সাম্প্রতিক সূচি পরিবর্তনের পর তারা নতুন পরিকল্পনা করেছে, যা খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য সর্বোত্তম হবে। তিনি আরও জানান, নারীদের ক্রিকেট দেড়শতম বার্ষিক টেস্টের আগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জাংশন ওভালে আলোতে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে। তিনি বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বিশেষভাবে নিউজিল্যান্ডকে দুইবার অস্ট্রেলিয়া সফরে সম্মতি দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নারী বিগ ব্যাশ লিগ অক্টোবরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত চলার কারণে এবং ভারতীয় নারী প্রিমিয়ার লিগ জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি দখল করে রাখায় অস্ট্রেলিয়ার নারী দল এখন ঘরের মাঠে মূলত গ্রীষ্মের শুরু ও শেষ অংশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে।
আপ্র/কেএমএএ/১১.০৬.২০২৬