২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা ঐতিহাসিক স্মারক নিলামে তুলেছে বিশ্বখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টিজ। ফিফা ও গ্লোবাল সিটিজেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ওয়ান গোল’ চ্যারিটি নিলামে রাখা হয়েছে ৪০টিরও বেশি বিশেষ সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী।
নিলামের আকর্ষণীয় সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে লিওনেল মেসির স্বাক্ষর করা আর্জেন্টিনা দলের জার্সি, বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যবহৃত অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’, কলম্বিয়ান সংগীতশিল্পী শাকিরার হাফটাইম শোতে পরা পোশাক, ম্যাডোনার স্বাক্ষর করা গ্লাভস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএসের সদস্যদের ব্যবহৃত বিভিন্ন পোশাক।
আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই নিলাম। বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থ ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে জমা হবে। এই তহবিল বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে।
বর্তমানে নিলামে সবচেয়ে বেশি দর উঠেছে বিটিএস সদস্য জিমিনের হাফটাইম শোতে পরা পোশাকটির। এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার মার্কিন ডলার। অন্যদিকে মেসির স্বাক্ষর করা জার্সি এবং ম্যাডোনার ব্যবহৃত গ্লাভসের জন্য সর্বোচ্চ দর উঠেছে ৬ হাজার মার্কিন ডলার করে। তবে নিলাম শেষ হওয়ার আগে এসব দামে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যবহৃত অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’। কালো ও সোনালি রঙের এই বলটির প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। ক্রিস্টিজের ধারণা, এটি ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হতে পারে।
কানেক্টেড বল প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এই বলের মাধ্যমে ম্যাচ চলাকালে বলের স্পর্শ ও গতিবিধির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থায় পাঠানো যায়। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ফাইনালে বলটি প্রায় ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ব্যবহৃত হয়েছিল এবং ওই সময়ে খেলোয়াড়রা এটিকে ২৩৫ বার স্পর্শ করেছিলেন।
এ ছাড়া উদ্বোধনী ম্যাচে ব্যবহৃত আরো কয়েকটি অফিসিয়াল বলও নিলামে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বলে মেক্সিকোর ফুটবলার সান্তিয়াগো হিমেনেজের স্বাক্ষর রয়েছে।
নিলামে রাখা হয়েছে শাকিরার বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হাফটাইম শোতে পরা পোশাকও। ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত তার গান ‘দাই দাই’ পরিবেশনের সময় তিনি এই পোশাকটি পরেছিলেন। একই পোশাক দেখা যায় গানটির অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিওতেও। কলম্বিয়ার জাতীয় দলের জার্সি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পোশাকটির নকশা তৈরি করা হয়।
জিমিন ছাড়াও বিটিএসের অন্য সদস্যদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীও নিলামে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভি-এর কালো সিল্কের স্কার্ফ, সুগার লাল প্যান্ট ও স্কার্ফ, জে-হোপের কালো গ্লাভস, আরএম-এর কালো চামড়ার বুট, জিনের লাল চামড়ার বেল্ট এবং জাংকুকের মোটরসাইকেল জ্যাকেট।
ম্যাডোনার ব্যবহৃত আঙুলবিহীন বিশেষ গ্লাভসও রয়েছে নিলামে। সোয়ারভস্কি ক্রিস্টাল দিয়ে সাজানো গ্লাভস দুটিতে রুপালি কালি দিয়ে তার স্বাক্ষর ও হৃদয়ের প্রতীক আঁকা রয়েছে। গ্লাভসগুলো তৈরি করেছেন তার দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট রিটা মেলসেন এবং কাস্টম ডিজাইনার লে রাইনস্টাড।
ফিফা ও গ্লোবাল সিটিজেন জানিয়েছে, নিলামে বিক্রি হওয়া প্রতিটি সামগ্রীর অর্থ শিক্ষা তহবিলে যুক্ত হবে। ফলে বিশ্বকাপের এই স্মারকগুলো শুধু সংগ্রাহকদের কাছেই মূল্যবান নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসি/আপ্র/২৬/০৭/২০২৬