চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ-এ ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নগরীর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ক্লাস বন্ধ থাকলেও ক্যাম্পাসে পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে। কলেজ প্রশাসন শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চায়।
এর আগে মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে ‘ছাত্র-রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দটি কালি দিয়ে মুছে ‘গুপ্ত’ শব্দ লিখে তীর চিহ্ন আঁকা হলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে অন্তত কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নগর পুলিশ কমিশনার জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে পরিস্থিতি আর অবনতি না ঘটে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসন আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ছাত্রসংঘর্ষ তীব্র: চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ-এ ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার সকালে আহত শিবিরকর্মীকে দেখতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম সাংবাদিকদের বলেন, এই হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা জড়িত। তিনি দাবি করেন, জড়িতদের শনাক্ত করে মামলা করা হবে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই সহিংসতা ঘটানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে দেয়ালের গ্রাফিতি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা গ্রাফিতি ঘিরে শব্দ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়। এরপর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় সংঘর্ষ চলে, যেখানে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর আহত এক শিবিরকর্মীকে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে দেখতে যান আবু সাদিক কায়েম। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শিবির কর্মীরাই প্রথম হামলা চালায় এবং গ্রাফিতি ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। উভয় পক্ষই একে অপরকে সংঘর্ষের জন্য দায়ী করছে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়, যেখানে সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেফতার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২২/৪/২০২৬