ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে তিনজন নারী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এ ঘটনায় আরো মরদেহ পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা একটা ১১ মিনিটের দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়কের আল বারাকা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরো চারটি ইউনিট যুক্ত হয়। দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সম্পূর্ণভাবে আগুন নেভানো সম্ভব হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর কারখানার ভেতর থেকে দগ্ধ পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে তা নারী না পুরুষ তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পরে শনিবার রাত আটটার দিকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, উদ্ধার হওয়া পাঁচ মরদেহের মধ্যে তিনজন নারী। তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। ওই নারীর নাম মিম আক্তার পাখি (১৮)। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা লন্ডনি হাউস এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। এ ছাড়া আরো দুইজন দগ্ধ শ্রমিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে মো. জিসান (১৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপরজন মো. আসিফ (১৪) জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন। তার শরীরের প্রায় ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের উৎস ও কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। উদ্ধার তৎপরতা ও পরিচয় শনাক্তের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
সানা/আপ্র/৪/৪/২০২৬