গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

তেলের অবৈধ মজুত ঠেকাতে দেশজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত

যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে সতর্কতা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২৮ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৪৭ এএম ২০২৬
যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে সতর্কতা
ছবি

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, বেশি দামে বিক্রি ও পাচার ঠেকাতে দেশজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে –ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য সংকট ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, বেশি দামে বিক্রি ও পাচার ঠেকাতে দেশজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেল সীমিতভাবে বিতরণ বা ‘রেশনিং’ চালু রাখার কথা জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী।

রোববার (৮মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাজারে সম্ভাব্য সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করছে-এমন অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে যানবাহনভিত্তিক তেল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করলেও কোথাও কোথাও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি, অতিরিক্ত মজুত, খোলাবাজারে বিক্রি ও পাচারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সীমিত সরবরাহ: বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ধীরে ধীরে বাড়লেও যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সীমিতভাবে জ্বালানি বিতরণ চালু থাকবে।

রোববার (৮ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রোববার সকালেই একটি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে এবং দুপুরে আরেকটি জাহাজ ভিড়ার কথা রয়েছে। এসব জাহাজ থেকে তেল সরবরাহ শুরু হলে দেশের মজুত আরো বাড়বে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মজুত বাড়লেও তা নির্বিচারে ব্যবহার করা যাবে না। যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নিশ্চিত নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মজুত সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করতেই সীমিত সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনেক জাহাজ মাঝসমুদ্রে আটকে আছে। সেগুলো দেশে পৌঁছাতে সময় লাগবে। এর মধ্যে যাতে বিদ্যমান মজুতে চাপ না পড়ে সেজন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
 

বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না: যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে-এমন গুজব সম্পর্কে সতর্ক করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করলে সংকট আরো বাড়বে। তাই জনগণকে অযথা তেল মজুত না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল যেন কালোবাজারি বা চোরাচালানে না যায় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধও করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে জ্বালানিবাহী জাহাজ: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলেও যুদ্ধ শুরুর আগে প্রণালী অতিক্রম করা কয়েকটি তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। রোববার সকালে আটটি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এসব জাহাজ ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই হরমুজ প্রণালী পার হয়েছিল। তবে পরবর্তী জাহাজগুলোর অনেকই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে আটকে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।

পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন: এদিকে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গত কয়েকদিন ধরে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চালকদের ভিড় বেড়েছে। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা।

রাজধানীর অনেক পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার কিছু পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি প্রধান সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, আতঙ্কের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল বিক্রি হওয়ায় অনেক পাম্পের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে।

সরকার বলছে মজুত স্বাভাবিক: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। চলতি ও আগামী মাসের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানিও নিশ্চিত করা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরো কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাবে। পাশাপাশি এপ্রিল পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত হয়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। তাই এ দুই ধরনের জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই বলে তারা জানিয়েছেন।
সানা/আপ্র/৮/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গুতে আরো ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুতে আরো ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই...

দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর অনুশীলন চলাকালে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে...

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে গত এক মাস ধরে কয়লা সংকটের কারণে...

খালে ভাসছিল লাশ, ৩৬ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উন্মোচন
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খালে ভাসছিল লাশ, ৩৬ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উন্মোচন

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনীতে জিরানী খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের প...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে