ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারো ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই ভূকম্পনে রাজধানীসহ দেশের বহু এলাকা কেঁপে ওঠে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা। ঢাকার আগারগাঁও আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৮৮ কিলোমিটার।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ কবীর বলেন, এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হুমায়ূন আখতার বলেন, পরপর দুই দফা এই কম্পন অনুভূত হয় এবং উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরাতেই।
আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে মানুষ
ভূমিকম্পের সময় সাতক্ষীরাসহ আশপাশের এলাকায় শক্ত ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। অনেকেই আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় বের হয়ে আসেন।
আশাশুনির পাশের উপজেলা খুলনার পাইকগাছার লস্কর গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক নলিনীকান্ত আজকের প্রত্যাশার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার জীবনে এত বেশি ঝাঁকুনি অনুভব করিনি। কম্পনের সময় পাকা ও কাঁচা ঘরবাড়ি থেকে মানুষ দ্রুত উঠোনে নেমে আসে। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরায় মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া অনেক মুসল্লিও ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিভিন্ন জেলায় কম্পন অনুভূত
ঢাকার পাশাপাশি খুলনা, পিরোজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ কয়েকটি জেলাতেও কম্পন টের পাওয়া গেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে।
২৬ দিনে আটবার ভূমিকম্প
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৬ দিনে দেশে অন্তত আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর আগে গত বুধবার রাতে মিয়ানমারে উৎপন্ন ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে।
১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন দিয়ে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার ভূমিকম্প হয়। ওই দিন সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ছাড়াও মিয়ানমারে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি কম্পন রেকর্ড করা হয়।
এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুটি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সানা/আপ্র/২৭/২/২০২৬