গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

পাঁচ বছরে দাম দ্বিগুণ, এলপিজির বাজারে নৈরাজ্য কেন?

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ০২:২৩ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০৩:২১ এএম ২০২৬
পাঁচ বছরে দাম দ্বিগুণ, এলপিজির বাজারে নৈরাজ্য কেন?
ছবি

ছবি সংগৃহীত

পাঁচ বছরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিলে যে সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ছিল ৯৭৫ টাকা, ২০২৬ সালের এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। এ সময় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি বিভিন্ন দফায় দাম বাড়িয়েছে এবং কমিয়েছে। কিন্তু দাম কমলেও ভোক্তার স্বস্তি ফেরেনি। বরং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন অন্য জায়গায় - বিইআরসি যে দাম নির্ধারণ করছে, সেই দামে বাজারে এলপিজি মিলছে না কেন?

সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। অথচ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ওই সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও ভোক্তাকে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হয়েছে।

অর্থাৎ, একদিকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাসের পর মাস মূল্য নির্ধারণ করছে, অন্যদিকে সেই মূল্য বাস্তব বাজারে কার্যকর হচ্ছে না। আরো উদ্বেগের বিষয়, বাজারে সংকটের কারণ নিয়েও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছেন সরবরাহ কমেছে, আমদানিকারক ও অপারেটররা বলছেন দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি রয়েছে। সরকারও বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এই বিপরীতমুখী তথ্যই এলপিজির বাজারের অস্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

পাঁচ বছরে ৩২ দফায় দাম বাড়লো
দেশে বেসরকারি পর্যায়ের এলপিজির দাম প্রথমবার নির্ধারণ করে বিইআরসি ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৯৭৫ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে দাম পরিবর্তনের পদ্ধতি চালু হয়।

২০২১ সালের মে ও জুনে দাম কমে যথাক্রমে ৯০৬ ও ৮৪২ টাকায় নেমেছিল। এরপর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দফা দাম বাড়ে। নভেম্বরে তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩১৩ টাকা। ডিসেম্বর মাসে আবার ৮৫ টাকা কমে দাম হয় ১ হাজার ২২৮ টাকা।

২০২২ সালে সাত দফা দাম বাড়ানোর বিপরীতে পাঁচ দফা কমানো হয়। ২০২৩ সালেও সাত দফা বাড়ানোর বিপরীতে পাঁচ দফা কমানো হয়। ২০২৪ সালে সাত দফা দাম বাড়ে। ২০২৫ সালে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কিছুটা কমলেও বছরের সর্বোচ্চ দাম ছিল ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৪৭৮ টাকা এবং নভেম্বরে তা নেমে আসে ১ হাজার ২১৫ টাকায়।

২০২৬ সালের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হয়। পরে ১৫ টাকা কমে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারিত হয়। মার্চে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে তা ১ হাজার ৯৪০ টাকায় নেওয়া হয়।

এরপর আবার কমে সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত হয়েছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অর্থাৎ ২০২১ সালের এপ্রিলের ৯৭৫ টাকা থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলে দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা - প্রায় ৯৯ শতাংশ।

কিন্তু ভোক্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই নির্ধারিত দাম বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না।


কাগজে ১ হাজার ৫৮৫, বাজারে দুই হাজারের বেশি

বিইআরসির মূল্য নির্ধারণের কাঠামো অনুযায়ী মজুত ও বোতলজাতকরণ থেকে পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত দামের বেশি দামে এলপিজি বিক্রির কথা নয়। কিন্তু বাস্তব বাজারে সেই নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে না বলে ভোক্তাদের অভিযোগ।

সাম্প্রতিক বাজারচিত্রে দেখা গেছে, ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারিত দামের সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও নিয়মিত ব্যবহার করা কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে গ্রাহকদের অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার নিতে হচ্ছে। কোথাও আবার নতুন সিলিন্ডারসহ বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

একজন ভোক্তার জন্য এর অর্থ হলো - রাষ্ট্র যে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে, বাজারে তাকে তার চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। মূল্য নির্ধারণের পরও যদি সেই মূল্য ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাস্তবতা নির্ধারণ না করে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে - নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবে কতটা কার্যকর?

সংকট আছে, নাকি সংকটের ব্যবস্থাপনায় সমস্যা?
এলপিজির বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।

২৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা দেশে কোনো সংকট নেই বলে জানান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানান, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে আরো ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন। তাদের দাবি, দেশের জোগান ও মজুত পরিস্থিতি ভালো।

১ অক্টোবর এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও জানায়, সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট। সংগঠনটি সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ দেয়।

কিন্তু এর বিপরীতে বাজারের একটি অংশের ব্যবসায়ীরা সরবরাহ ঘাটতির কথা বলছেন। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আমদানিকারক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এলপিজি সংগ্রহের অতিরিক্ত প্রিমিয়ামও বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না থাকা আমদানিকারকদের জন্য খোলা বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়-দেশে আমদানি পর্যাপ্ত হলে খুচরা বাজারে সরবরাহ কমছে কেন? আর যদি সরবরাহে বাস্তব ঘাটতি থাকে, তাহলে আমদানির পরিমাণ ও মজুতের সরকারি হিসাবের সঙ্গে তার ব্যাখ্যা কোথায়?

এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

বাজারের তথ্য কোথায়?
এলপিজি বাজারের বড় দুর্বলতা শুধু দামের অস্থিরতা নয়, তথ্যের অস্বচ্ছতাও।
দেশে মোট কত এলপিজি মজুত আছে, কোন কোম্পানির কাছে কত মজুত রয়েছে, প্রতিদিন কত আমদানি হচ্ছে, আমদানিকারক থেকে পরিবেশক এবং পরিবেশক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত কোন দামে সিলিন্ডার হাতবদল হচ্ছে - এসব তথ্য সাধারণ ভোক্তার সামনে নিয়মিত ও সহজবোধ্যভাবে প্রকাশিত হয় না।

ফলে বাজারে কোনো সংকট তৈরি হলে ভোক্তা বুঝতে পারেন না সেটি প্রকৃত সরবরাহ ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, আমদানির সমস্যা, পরিবহন ব্যয়, ব্যবসায়ীদের মূল্যঝুঁকি, নাকি সরবরাহশৃঙ্খলের কোনো পর্যায়ের অনিয়মের ফল।

এই তথ্যঘাটতিই গুজব, আতঙ্ক এবং অতিরিক্ত দামের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি
দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় পুরোটাই বেসরকারি খাতনির্ভর। সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাজারে সরকারের অংশ মাত্র ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাকি অংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। বাজারে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সংকটের সময় সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছিল।

কিন্তু সেই উদ্যোগের সাত মাস পরও বিপিসি এলপিজি আমদানি করতে পারেনি বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে বাজারে সংকট তৈরি হলে সরকার সরাসরি সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা কতটা রাখে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।

একই সঙ্গে আমদানির বাজারেও বড় ব্যবসায়ীদের প্রভাব রয়েছে। এ অবস্থায় বাজারে প্রতিযোগিতা, আমদানির সুযোগ, অর্থায়ন, ঋণপত্র, মজুত ও বিতরণ - প্রতিটি স্তরের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

আমদানির পরও ভোক্তার সংকট কেন?
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে আমদানিকারকরা বলছেন দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি এসেছে, অন্যদিকে ভোক্তা বলছেন দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না অথবা পেলেও নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না।

এমনকি এলপিজি অপারেটরদের সংগঠনও স্বীকার করেছে যে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটি সদস্যদের নির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে।

এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে-আমদানিকারক পর্যায়ে পর্যাপ্ত পণ্য থাকলে সেই পণ্য কোথায় যাচ্ছে? সরবরাহ কমে গেলে কোন পর্যায়ে কমছে? আর যদি কোনো পর্যায়ে কৃত্রিমভাবে সরবরাহ আটকে রাখা হয়, সেটি শনাক্ত ও বন্ধ করার দায়িত্ব কার?

শুধু খুচরা বিক্রেতাকে দায়ী করে সমস্যার সমাধান হবে না। আমদানি থেকে ভোক্তার রান্নাঘর পর্যন্ত পুরো সরবরাহশৃঙ্খল পরীক্ষা করা দরকার।

সরকারের হস্তক্ষেপ, কিন্তু ফল কোথায়?
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারও নড়েচড়ে বসেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন, কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে। তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান বা সাময়িক নজরদারি যথেষ্ট নয়। কারণ একই সমস্যা যদি মাসের পর মাস ফিরে আসে, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যাটি কোনো এক দোকানদারের নয়; বাজারব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে।

বিইআরসি মূল্য নির্ধারণ করবে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর খুচরা বাজার দেখবে, প্রতিযোগিতা কমিশন প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণ দেখবে, বিএসটিআই মান ও নিরাপত্তার বিষয় দেখবে - কিন্তু বাস্তবে এসব সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বিত তথ্যভিত্তিক নজরদারি কতটা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।

আস্থার সংকট তৈরি হলে ক্ষতি আরো বড়
এলপিজি এখন শুধু একটি ব্যবসায়িক পণ্য নয়; লাখ লাখ পরিবারের রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি। ফলে এই বাজারে অস্বাভাবিকতা সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আঘাত করে।

একজন ভোক্তা যখন রাষ্ট্রের ঘোষিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ২ হাজার বা তার বেশি টাকা দেন, তখন শুধু তাঁর বাড়তি অর্থ ব্যয় হয় না - রাষ্ট্রের মূল্যনির্ধারণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। আর যখন একদিকে সরকার ও আমদানিকারকরা বলেন সংকট নেই, অন্যদিকে ভোক্তা বাজারে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আস্থার সংকট তৈরি হয়।

সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থায় মূল্য নির্ধারণ, সরবরাহ, মজুত ও খুচরা বিক্রির প্রতিটি স্তরে একটি দৃশ্যমান জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন। কোনো পণ্যের দাম কেন বাড়ল, কতটা আমদানি হলো, কতটা মজুত আছে, কতটা বাজারে ছাড়া হলো এবং ভোক্তা শেষ পর্যন্ত কত দামে কিনবেন - এসব প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্রের কাছে স্পষ্ট থাকা উচিত।

এলপিজির বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু মাসে মাসে নতুন দাম ঘোষণা করলেই বাজার নিয়ন্ত্রণ হয় না। বাজারে সেই দাম কার্যকর করার সক্ষমতা, সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা, মজুতের তথ্য প্রকাশ, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা - সবকিছু একসঙ্গে দরকার।

অন্যথায় মূল্য নির্ধারণ হবে কাগজে, সরবরাহ থাকবে ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে আর বাড়তি দাম দিতে হবে ভোক্তাকেই।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে বাজার, নিয়ন্ত্রণের বাইরে দাম

এলপিজির বাজারে বর্তমান পরিস্থিতি তাই সরকারের জন্য কেবল একটি জ্বালানি-বাজারের সমস্যা নয়; এটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও জনআস্থার প্রশ্নও। পর্যাপ্ত আমদানি থাকলে কেন নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাবে না - আর বাস্তব সংকট থাকলে তার সঠিক তথ্য কেন প্রকাশ্যে থাকবে না - এই দুই প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক উত্তর জরুরি।

সরকারের দায়িত্ব শুধু দাম ঘোষণা করা নয়; ঘোষিত দাম বাস্তবে কার্যকর করা। শুধু আমদানির পরিমাণ জানানো নয়; আমদানি থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহশৃঙ্খল নজরদারিতে রাখা। শুধু কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কার কথা বলা নয়; প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া।

কারণ একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির বাজারে এমন অস্বচ্ছতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এলপিজির বাজারে এই অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি চলতে থাকলে ক্ষতি শুধু ভোক্তার পকেটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ক্ষয় হবে বাজারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থারও। তাই এলপিজির বাজারকে স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক করা এখন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব-এবং সেই দায়িত্ব পালনের সাফল্য মাপা হবে ঘোষিত দামে নয়, ভোক্তা শেষ পর্যন্ত কত দামে সিলিন্ডার কিনতে পারছেন, তার ভিত্তিতেই।
সানা/আপ্র/৩/১০/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে দীর্ঘ ছুটি
০৩ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে দীর্ঘ ছুটি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলতি মাসে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি থাকছে। তবে প্রতিষ্ঠান...

ধানমন্ডিতে রঙমিস্ত্রির লাশ, দারোয়ানসহ গ্রেফতার ২
০৩ অক্টোবর ২০২৬

ধানমন্ডিতে রঙমিস্ত্রির লাশ, দারোয়ানসহ গ্রেফতার ২

ঢাকার পশ্চিম ধানমন্ডির একটি ১০ তলা ভবনের গ্যারেজের ওপর থেকে সদলক খান বাবু (৩৫) নামে এক রঙমিস্ত্রির ম...

রাজধানীতে এক দিনে তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
০৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীতে এক দিনে তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর ডেমরা, কামরাঙ্গীরচর ও বংশালে পৃথক ঘটনায় তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবা...

বাংলামোটরে চাঁদা না পেয়ে ওষুধ বিক্রেতাকে মারধর, চারজন রিমান্ডে
০২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলামোটরে চাঁদা না পেয়ে ওষুধ বিক্রেতাকে মারধর, চারজন রিমান্ডে

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ওষুধ বিক্রেতাকে আগ্নেয়াস্ত্রের বাঁট দিয়ে আঘ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপিকে চাঁদাবাজ বললে বিচার করবে জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকলে, তার বিচার জনগণ করবে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- জনগণ বিচার করবে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে