রাজধানীর ডেমরা, কামরাঙ্গীরচর ও বংশালে পৃথক ঘটনায় তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এসব ঘটনায় নিহতরা হলেন- ডেমরার মোছাম্মৎ পপি (৩৫), কামরাঙ্গীরচরের স্বপ্না বেগম (৩৮) এবং বংশালের হাশেম (৪৮)। তাদের মধ্যে দুজন ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি ঘটনাই আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।
ডেমরায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার: বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোডের আমার ভুবন ভবনের ১১ তলার একটি ফ্ল্যাটের বাথরুম থেকে মোছাম্মৎ পপির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ডেমরা থানার এসআই মাহবুর রহমান জানান, বাথরুমের ভেতর পপিকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পপি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নন্দলালপুর এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি পরিবার নিয়ে ওই ভবনে থাকতেন।
পপির স্বামী রনি বলেন, দুপুরে গোসলের জন্য বাথরুমে ঢোকার শব্দ পাওয়ার পর সব নিস্তব্ধ হয়ে যায়। সন্দেহ হলে মেশিন দিয়ে দরজা কেটে ভেতরে ঢুকে তিনি স্ত্রীকে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। কেন এমন করলেন, তা বুঝতে পারছেন না বলে জানান তিনি। তাদের মধ্যে কোনো ঝগড়াও হয়নি বলে দাবি করেন রনি।
তিনি বলেন, “আমাদের চারটি সন্তান। তিন ছেলে এক মেয়ে। আমাদের বড় ছেলের ঘরেও আমাদের একটি নাতি আছে, তার বয়স আড়াই বছর। আমারও একটি দুই বছরের ছোট্ট মেয়ে আছে। আমরা বুঝতেই পারছি না সে কেন এমন কাজটি করল।”
কামরাঙ্গীরচরে গৃহবধূর মৃত্যু: বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুরের ঝাউলাহাটি চৌরাস্তা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বপ্না বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাসার ম্যানেজার টিটু জানান, প্রায় আট মাস আগে পরিবার নিয়ে ওই বাসার নিচতলায় ওঠেন স্বপ্না। তখন থেকেই তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন।
স্বপ্নার স্বামী খাজা অটোরিকশা চালান। তিনি জানান, বুধবার রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় স্বপ্না তাকে দ্রুত বাসায় ফিরতে বলেছিলেন। সকালে ছেলে ফোন করে জানায়, তার মা ‘ফাঁস দিয়েছে’। পরে বাসায় ফিরে স্ত্রীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন তিনি।
কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই আরিফুল ইসলাম বলেন, “ছেলে-মেয়ে বাইরে ছিল, সে সময় ফাঁকা বাসায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
বংশালে ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: বংশালের নাজিম উদ্দিন রোডের একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলা থেকে হাশেমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাশেমের ছেলে হাসিব জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ ছিলেন। বোনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি ফাঁস দেন বলে জানান হাসিব।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, তিনজনের মরদেহই মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
সানা/আপ্র/৩/১০/২০২৬