গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

‘ঘুষ.সাইট’ নির্মাতার অভিযোগে দুই কর্মচারীকে শোকজ করা কর্মকর্তা বদলি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৩২ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:১৬ এএম ২০২৬
‘ঘুষ.সাইট’ নির্মাতার অভিযোগে দুই কর্মচারীকে শোকজ করা কর্মকর্তা বদলি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মৃত মায়ের সরকারি পাওনার ১০ লাখ টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদ। তার অভিযোগ, ওই টাকা পেতে তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সারাদেশে ঘুষের চিত্র তুলে ধরতে ‘ঘুষ.সাইট’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন শাহেদ।

তার অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ ও মুহাম্মদ মজিবুর রহমানকে শোকজ করা হয়। এ ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে এর মাত্র তিন দিনের মাথায় ওই দুই কর্মচারীকে শোকজ করা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে বদলি করা হয়েছে।

গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা থেকে বদলি করে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। আদেশে এ বদলিকে ‘জনস্বার্থে’ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ, দুই কর্মচারীকে শোকজ, তদন্ত প্রতিবেদন জমা এবং এর পরপরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই তাকে কেন বদলি করা হলো, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

শাহেদের অভিযোগ, তার মা আমিনা খাতুন চাকরিরত অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর পরিবারের কল্যাণ তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা এবং চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুর কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আরো আট লাখ টাকা পাওয়ার কথা। সব মিলিয়ে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও সেই টাকা পেতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

শাহেদের দাবি, ‘ঘুষ না দিলে ফাইল এগোবে না’ বলেও তাদের জানানো হয়। পরে তিনি এ ঘটনায় ‘ঘুষ.সাইট’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন এবং সেখানে অভিযোগটি প্রকাশ করেন। চালুর অল্প সময়ের মধ্যেই প্ল্যাটফর্মটি দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সারাদেশ থেকে জমা হতে থাকে হাজার হাজার ঘুষ দাবির অভিযোগ। এসব অভিযোগে ঘুষ দাবির পরিমাণ শত শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এতে প্ল্যাটফর্মটির পাশাপাশি শাহেদের নিজের অভিযোগটিও আলোচনায় আসে।

অভিযোগটি সামনে আসার পর গত ৩১ আগস্ট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ মজিবুর রহমানকে শোকজ করা হয়। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের স্বাক্ষর করা শোকজ নোটিশে দুই কর্মচারীকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।

অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এর তিন দিনের মাথায়, ৯ সেপ্টেম্বর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা থেকে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) মোছাম্মদ রোখসানা হায়দার স্বাক্ষরিত আদেশে মনিকা পারভীনকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

তবে বদলির আদেশে সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে কোনো অভিযোগ, তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু ‘জনস্বার্থে’ বদলির কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন সিকদার বলেন, ‘আমাদের তিনজনকে শোকজের বিষয়ে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন গত রোববার জমা দেওয়া হয়েছে। এর বেশি এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে পারছি না।’

বদলির বিষয়ে মনিকা পারভীন বলেন, ‘আমাদের কার্যালয় নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে বদলি করা হয়েছে। বদলির নির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে কি না, তা আমার জানা নেই।’

ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো কর্মকর্তা সরকারি আদেশে যেকোনো সময় বদলি হতে পারেন। শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে বদলির পেছনে আলাদা কোনো কারণ আছে কি না, আমার জানা নেই।’

ঘুষের অভিযোগ ও দুই কর্মচারীকে শোকজের সঙ্গে এই বদলির কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঘুষ.সাইটে অভিযোগ ও শোকজের কারণেও হতে পারে। আবার নান্দাইলে শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যাওয়ার জন্য তিনি আবেদন করে থাকতে পারেন, এ কারণেও হতে পারে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, শোকজ নোটিশ দেওয়ার পর থেকেই শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন এবং শাহেদের বাবা শরীফুল ইসলাম শামীমের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব চাপের কারণেই মনিকা পারভীনকে বদলি করা হয়ে থাকতে পারে।

পাশাপাশি ‘ঘুষ.সাইট’ চালু করে আলোচনায় আসার পর শাহেদও নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

শাহেদ বলেন, ‘প্ল্যাটফর্ম চালু করে আলোচনায় আসার পর থেকে বিভিন্নভাবে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব চাপ ও নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়ে এখনো থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে থানায় অভিযোগ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দাবির অভিজ্ঞতা থেকেই সাইফ কবির নামে এক তরুণকে সঙ্গে নিয়ে ‘ঘুষ.সাইট’ তৈরির উদ্যোগ নেন শাহেদ শরীফ আহমেদ। গত ২১ আগস্ট চালুর পর থেকেই ওয়েবসাইটটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এসি/আপ্র/১৩/০৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন...

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং শব্দই থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং শব্দই থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ম...

রাজধানীতে একদিনে নারীসহ পাঁচ মরদেহ উদ্ধার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে একদিনে নারীসহ পাঁচ মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পৃথক স্থান থেকে নারীসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ...

ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ১৪৩, হাসপাতালে আরো ১০৫৬
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ১৪৩, হাসপাতালে আরো ১০৫৬

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে