একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর পুরো পরিবারের চিত্রই বদলে যায়। নতুন জীবনের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি বাড়ে দায়িত্বও। ফলে দিনে দিনে হারিয়ে যেতে থাকে স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের জন্য রাখা সময়। রাত জেগে শিশুর যত্ন, কাজের চাপ ও সারাদিনের ক্লান্তিতে একসময়কার আবেগঘন মুহূর্ত কিংবা গভীর রাতের দীর্ঘ আড্ডাগুলোও যেন দূর অতীতের গল্প হয়ে ওঠে।
অনেক দম্পতি এ সময় অপরাধবোধে ভোগেন—তবে কি আমাদের মধ্যকার সুন্দর মুহূর্তগুলো ফুরিয়ে গেল? উত্তর হলো, না। ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি; মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের নতুন দায়িত্বের কারণে তা সাময়িকভাবে চাপা পড়ে গেছে। একটু সচেতনতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আবারো ফিরিয়ে আনা সম্ভব দাম্পত্যের সেই পুরোনো উষ্ণতা।
দায়িত্ব ভাগ করে নিন
সন্তানের দেখাশোনার সব দায়িত্ব একা একজনের ওপর পড়লে মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি বেড়ে যায়। আর রোমান্সের অন্যতম বড় বাধা হলো ক্লান্তি। তাই শিশুর দায়িত্ব দুজন মিলে ভাগ করে নিন। একজন যখন শিশুর যত্ন নেবেন, অন্যজন তাকে কিছুটা সময় বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দিন। সঙ্গী যখন মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকবেন, তখন ভালোবাসার জায়গাটিও সহজে তৈরি হবে।
সারাদিন যোগাযোগ রাখুন
ব্যস্ততার কারণে দিনে হয়তো সামনাসামনি কথা বলার সুযোগ কম থাকে। তবে কাজের ফাঁকে ‘তোমার কথা মনে পড়ছে’ কিংবা ‘আজ তোমাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল, নিজের যত্ন নিও’—এমন ছোট্ট একটি বার্তাও সঙ্গীকে অনুভব করাতে পারে যে তিনি এখনো আপনার কাছে কতটা বিশেষ।
নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখুন
সপ্তাহে অন্তত একদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থেকে শিশুর ঘুমানোর পর রাতের কিছুটা সময় শুধু দুজনের জন্য রাখুন। এ সময় একসঙ্গে সিনেমা দেখা, বারান্দায় বসে চা পান করা কিংবা গল্প করা যেতে পারে।
সুযোগ থাকলে মাসে অন্তত একবার কাছের কোনো মানুষের কাছে সন্তানকে কিছু সময়ের জন্য রেখে দুজনে বাইরে ঘুরে আসতে পারেন। এতে একঘেয়েমি কাটার পাশাপাশি নিজেদের সম্পর্কটিকেও নতুন করে উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হবে।
সন্তানকে বাদ দিয়েও কথা বলুন
সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে যখন দুজন একসঙ্গে বসবেন, তখন আলোচনার বিষয় যেন শুধু সন্তানকে ঘিরে না থাকে। সন্তানের খাওয়ার হিসাব কিংবা দৈনন্দিন যত্নের বিষয়গুলোর বাইরেও আপনাদের নিজস্ব একটি জগৎ রয়েছে।
সঙ্গীর সারাদিন কেমন কেটেছে, তার মনের অবস্থা কেমন, কী নিয়ে ভাবছেন—এসব নিয়েও কথা বলুন। চাইলে কোনো পুরোনো স্মৃতির রোমন্থন দিয়েও রাতের আড্ডা শুরু করতে পারেন।
ছোট ছোট স্পর্শের জাদু
রোমান্স মানেই বড় কোনো আয়োজন কিংবা ব্যয়বহুল কোথাও ঘুরতে যাওয়া নয়। কাজের ফাঁকে হঠাৎ প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরা, রান্নাঘরের ব্যস্ততার মধ্যে যতটা সম্ভব কাজে সাহায্য করা কিংবা সকালে এক কাপ চা একসঙ্গে পান করতে করতে গল্প করাও ভালোবাসার গভীরতা ধরে রাখতে পারে।
এ ধরনের ছোট ছোট স্নেহপূর্ণ স্পর্শ ও যত্ন সঙ্গীর সারাদিনের ক্লান্তি অনেকটাই দূর করতে পারে এবং সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়াতে সাহায্য করে।
পরস্পরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন
বাবা-মা হিসেবে সঙ্গীর ছোট ছোট প্রচেষ্টারও প্রশংসা করুন। ‘তুমি বাবুর খুব সুন্দর করে খেয়াল রাখছ’ কিংবা ‘তুমি সত্যিই একজন চমৎকার বাবা বা মা’—এ ধরনের আন্তরিক স্বীকৃতি সঙ্গীর মনে ভালো লাগা ও অনুরাগ তৈরি করে।
সন্তান ঘরে আসা মানে দাম্পত্যের রোমান্সের সমাপ্তি নয়। বরং এটি ভালোবাসার একটি নতুন ও পরিণত অধ্যায়ের সূচনা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুন্দর বোঝাপড়া, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামান্য যত্নই পারে বাবা-মা হওয়ার নতুন যাত্রাতেও দাম্পত্যকে উষ্ণ ও প্রাণবন্ত রাখতে।
এসি/আপ্র/১৩/০৯/২০২৬