দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন এবং ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বছরের কোনো না কোনো সময়ে কাজের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘১০ম রোগী শিক্ষা কার্যক্রম ও ১ম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে’ বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সম্মেলনে বিভিন্ন গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করে বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০১৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের মাসকুলোস্কেলিটাল গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত। এদের ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন এবং ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বছরের কোনো না কোনো সময়ে কাজের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
এর আগে আঞ্চলিক কোপকর্ড জরিপেও দেশের ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের হাড় ও পেশির ব্যথায় ভোগার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া এশীয় জনমিতি ও আন্তর্জাতিক অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এর অর্থ, প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। ২০২৬ সাল নাগাদ ৫০ বছর বা তদূর্ধ্ব নারীদের ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬৫ লাখ ৬০ হাজার নারী এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বাত ও ব্যথাসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএনআরএফআর ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নীরা ফেরদৌস।
দেশে বাতরোগের প্রকোপ ও করণীয় নিয়ে পিএনআরএফআর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও বাতব্যথা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে বহু বাতের রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। এতে কর্মক্ষম মানুষের কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোগীদের অসচেতনতা, চিকিৎসা ব্যয়ের সামর্থ্যের অভাব এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুসংগঠিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা বাতরোগের সুচিকিৎসার প্রধান বাধা।
দিনব্যাপী রোগী সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের কাউন্সিলর ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদ হোসেন, বিসিবির মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, মেজর জেনারেল কাজী ইফতেখার-উল-আলম, পিএনআরএফআরের মহাসচিব ড. পিযুষ কান্তি বিশ্বাস এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ অনেকে।
এসি/আপ্র/১৩/০৯/২০২৬