কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবাধ বিকাশে বৈশ্বিক ঝুঁকির আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও সম্ভাব্য অনিয়ন্ত্রিত সাইবার হামলার ঝুঁকি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানগুলো।
সম্প্রতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এক নিবন্ধে এআইয়ের সম্ভাব্য নেতিবাচক ও বিপজ্জনক দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, একদল এআই এজেন্ট নিজেদের নির্ধারিত নির্দেশনার বাইরে গিয়ে উগ্র গোষ্ঠীর মতো সাইবার হামলা চালিয়েছে।
আমোদেইর আশঙ্কা, এআইয়ের সক্ষমতা বর্তমান গতিতে বাড়তে থাকলে আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে কিছু এআই ব্যবস্থা পুরো ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এর ফলে শত শত বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে এআই প্রযুক্তির বিকাশের গতি কিছুটা কমিয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক। একই সঙ্গে এআই মডেলগুলো নির্ধারিত নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কি না, তা যাচাই করতে স্বতন্ত্র তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নকারী দলকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তি খাতের নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানও এই তদারকি ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক অ্যানথ্রপিকের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ওপেনএআই জানিয়েছে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারাও নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থার আওতায় নিজেদের যুক্ত করতে সম্মত।
প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ তদারকি উদ্যোগ অনিয়ন্ত্রিত এআইয়ের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এসি/আপ্র/১৩/০৯/২০২৬