মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকাসহ দেশের ১০ জেলা ও মহানগর এলাকায় ২২টি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
ঢাকা ও মহানগরে পাঁচ ট্রাইব্যুনাল
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এলাকায় একটি এবং ঢাকা মহানগরে চারটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর-১-এর অধিক্ষেত্রে পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাসানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল, শেরেবাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা এলাকা রাখা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর-২-এর অধিক্ষেত্রে রয়েছে কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালি, বঙ্গাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকা।
ঢাকা মহানগর-৩-এর অধিক্ষেত্রে মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, ডেমরা, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও ওয়ারী থানা এলাকা রাখা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর-৪-এর অধিক্ষেত্রে রয়েছে উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরা পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, তুরাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ভাটারা, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত থানা এলাকা।
নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে চার ট্রাইব্যুনাল
নারায়ণগঞ্জে দুটি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-১-এর অধিক্ষেত্রে ফতুল্লা, সোনারগাঁও ও নারায়ণগঞ্জ সদর এবং নারায়ণগঞ্জ-২-এর অধিক্ষেত্রে সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও বন্দর থানা এলাকা রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা এলাকার জন্য একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য তিনটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর-১-এর অধিক্ষেত্রে চাঁদগাঁও, খুলশী, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামী ও কর্ণফুলী থানা এলাকা রয়েছে।
মহানগর-২-এর অধিক্ষেত্রে কোতোয়ালি, আকবর শাহ, চকবাজার, সদরঘাট ও পতেঙ্গা এবং মহানগর-৩-এর অধিক্ষেত্রে বাকলিয়া, পাহাড়তলী, হালিশহর, ডবলমুরিং, বন্দর ও ইপিজেড থানা এলাকা রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার ও কুমিল্লায় পাঁচ ট্রাইব্যুনাল
কক্সবাজারে তিনটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। কক্সবাজার-১-এর অধিক্ষেত্রে টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী; কক্সবাজার-২-এর অধিক্ষেত্রে উখিয়া, সদর ও ঈদগাঁও এবং কক্সবাজার-৩-এর অধিক্ষেত্রে রামু, চকোরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী থানা এলাকা রাখা হয়েছে।
কুমিল্লায় দুটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। কুমিল্লা-১-এর অধিক্ষেত্রে কোতোয়ালি, সদর দক্ষিণ, হোমনা, তিতাস, মেঘনা, লালমাই, বরুড়া, চান্দিনা ও দেবিদ্বার থানা এলাকা রয়েছে।
কুমিল্লা-২-এর অধিক্ষেত্রে রয়েছে বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার, দাউদকান্দি, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট থানা এলাকা।
আরো ছয় এলাকায় পৃথক ট্রাইব্যুনাল
প্রজ্ঞাপনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোর জেলা এলাকার জন্য পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী মহানগর এলাকার জন্যও একটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
ফলে জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এসব এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় নির্ধারিত মামলাগুলোর বিচার সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পরিচালিত হবে।
৬০ দিনের মধ্যে মামলা স্থানান্তর
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীন পাঁচ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাগুলো বর্তমান আদালত থেকে নবগঠিত মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে।
আইন ও বিধি অনুযায়ী মামলাগুলো স্থানান্তরের পর যে পর্যায়ে রয়েছে, সেই পর্যায় থেকেই সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য পরিচালিত হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আলেকুর রহমান এ প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
সানা/আপ্র/৪/৯/২০২৬