নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ত্রাণ, উদ্ধার কার্যক্রম ও মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার অংশ হিসেবে দেশটিকে ১০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই অর্থ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকায় নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারির হাতে এ সহায়তা তুলে দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই অনুষ্ঠানে নেপালের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা একটি চিঠি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর কাছে হস্তান্তর করেন তিনি।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫২ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪ হাজার ২১৬ জন।
২৬ আগস্ট সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক প্রবল বন্যা দেখা দেয়। হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোতের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীতীরবর্তী জনপদ তছনছ করে দেয়। পরে সেই স্রোত ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে।
প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যায়। ধ্বংস হয় সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ও কাদার স্রোত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দলগুলো এখনও দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কায় সেখানে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ বন্যাকবলিত মূল এলাকা থেকে বহু দূরে ভাটির বিভিন্ন জেলায় পৌঁছেছে। এতে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং নিখোঁজদের সন্ধান করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আগেই সংহতি জানিয়েছিল বাংলাদেশ
নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে সমবেদনা জানিয়ে এর আগে ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নেপাল দূতাবাসে খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এর আগে ২৭ আগস্ট নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
সহায়তা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রাচার প্রধান এ এফ এম জাহিদ-উল-ইসলাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের প্রধান শাহ্ আসিফ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/৪/৯/২০২৬