চট্টগ্রামের রাউজানে কেরানীহাট বাজারে মুহাম্মদ করিম নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলির পর দীর্ঘ সময় সড়কের পাশে তাঁর মরদেহ পড়ে ছিল। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত করিম উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের মো. শফীর ছেলে। বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের কোনো যোগসূত্রের কথা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, কে বা কারা করিমকে গুলি করে চলে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন কেরানীহাট বাজারের সব দোকান বন্ধ ছিল এবং সড়কে মরদেহ পড়ে ছিল। বাজারে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে একদল অস্ত্রধারী কেরানীহাট বাজারে আসে। তারা করিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। তবে হামলাকারীদের সংখ্যা ও তাঁদের পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য থাকায় বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত করবে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, করিম মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এ-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পুলিশের বরাত দিয়ে কয়েকটি প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন মামলার কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ঘটনার পর কেরানীহাট বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থল কিছু সময় জনশূন্য হয়ে পড়ে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
রাউজানে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে গুলি ও হত্যাকাণ্ডের একাধিক ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতার কথা উঠে এসেছে।
সানা/আপ্র/৪/৯/২০২৬