রাজধানীর ডেমরা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার ‘দাওলাতুল ইসলাম’-এর দুই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে জুয়েল ভূইয়া ওরফে ওস্তাদকে তিন দিন এবং মো. আরিফ চৌধুরীকে দুই দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মহিন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, রোববার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এন্টি টেররিজম ইউনিট জানতে পারে, জননিরাপত্তা বিপন্ন করা এবং প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিস্ফোরক দ্রব্যসহ কয়েকজন ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকায় অবস্থান করছে।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সারুলিয়া পশ্চিম বক্সনগর নিঝুমবাগ এলাকার গরিবের নেওয়াজ মসজিদ রোডে ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি চায়ের দোকানের সামনে দুই আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে জুয়েল ভূইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আরিফ চৌধুরী পালানোর চেষ্টা করলে প্রায় আট থেকে দশ গজ দূরে গিয়ে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, দুই আসামির কাছ থেকে কালো কসটেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি তাজা ডেটোনেটর বোমা উদ্ধার করা হয়। বোমা দুটি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে ধ্বংস করে।
এ ছাড়া আসামিদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, একটি গ্যাস লাইটসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মুঠোফোনের তথ্য ও অন্যান্য আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ আরো দাবি করেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নিজেদের ‘দাওলাতুল ইসলাম’-এর সক্রিয় সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছে। সংগঠনটির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে তারা ঘটনাস্থলে একত্রিত হয়েছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে।
মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। এ ঘটনায় এন্টি টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক পলাশ আলী রোববার ডেমরা থানায় মামলা করেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৭/৮/২০২৬