দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুজন সেনকে পাঁচ বছরের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে পদাবনতি দিয়ে সহকারী অধ্যাপক করা হয়েছে। এ সময়ে তিনি কোনো বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টও পাবেন না। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেজিস্ট্রার জানান, পাঁচ বছর পর সুজন সেন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে যোগদানের যোগ্য হবেন। এরপর আরো চার বছর পর তিনি সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ পদমর্যাদা ও পদোন্নতির হিসাবে তাকে মোট নয় বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পাঁচ বছর কোনো ইনক্রিমেন্টও পাবেন না।
সিদ্ধান্তের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুজন সেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৫ আগস্ট অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা সুজন সেনকে তার বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। পরে ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগের সভাপতির কাছে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণসহ প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা।এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকার সময়ও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগগুলো সামনে আসার পর ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সুজন সেনকে বিভাগের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ১৮ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সিন্ডিকেটের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে তার বর্তমান পদমর্যাদা কমেছে, অন্যদিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এমন শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৭/৮/২০২৬