বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেটের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া বা বিনাইন প্রোস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া। এ ছাড়া প্রোস্টেট ক্যানসারও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
খাদ্যাভ্যাস প্রোস্টেটের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় বাজারে সহজে পাওয়া বিভিন্ন ফল, শাকসবজি, মাছ, ডাল, বাদাম ও বীজ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
বেশি করে শাকসবজি ও ফল খান
প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফল রাখা ভালো। এসব খাবারে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্রকলি, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো সবজি নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। টমেটোতেও রয়েছে লাইকোপেন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কিছু গবেষণায় লাইকোপেনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে প্রোস্টেটের ভালো স্বাস্থ্যের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নিন
খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস রাখা ভালো। বাদাম, আখরোট, বিভিন্ন বীজ, জলপাই তেল এবং মাছ এ ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে।
রুই, কাতলা, ইলিশসহ বিভিন্ন মাছও সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। মাছের চর্বিতে থাকা ওমেগা-৩সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার রাখুন
জিঙ্ক শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় একটি খনিজ। কুমড়ার বীজ, ডালজাতীয় খাবার, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ থেকে জিঙ্ক পাওয়া যায়। তবে শুধু জিঙ্কযুক্ত খাবার খেলেই প্রোস্টেটের রোগ প্রতিরোধ করা যায়—এমন নিশ্চয়তা নেই।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
সারা দিনে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। তবে প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়ার কারণে রাতে বারবার প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত পানি পান না করাই ভালো।
এ ছাড়া ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কিছু মানুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের বেগ ও ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা বাড়াতে পারে। তাই এ ধরনের পানীয় পরিমিত খাওয়া ভালো।
লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম রাখা ভালো। এর পরিবর্তে মাছ, চর্বিহীন মাংস, ডিম, ডাল ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
গ্রিন টি খেতে পারেন
গ্রিন টিতে ক্যাটেচিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। কিছু গবেষণায় এসব উপাদানের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারের কথা বলা হয়েছে। তবে গ্রিন টি কোনো প্রোস্টেট রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
আঁশযুক্ত খাবার বাড়ান
ডাল, শাকসবজি, ফল ও গোটা শস্যে প্রচুর খাদ্যআঁশ থাকে। আঁশ হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে মূত্রসংক্রান্ত কিছু উপসর্গ আরও বিরক্তিকর হতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা প্রোস্টেটসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি সুষম খাদ্য গ্রহণ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
তবে প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া, প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা, রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হওয়ার অনুভূতি কিংবা প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে শুধু খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এসি/আপ্র/০২/০৯/২০২৬