ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সাম্প্রতিক নানা সংকটে বিপর্যস্ত নেপালের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারত ও চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন নেপালের এই অভিনেত্রী।
কাঠমান্ডুতে ‘নেপালের সঙ্গে সংহতি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
মনীষা বলেন, পর্যটন শিল্প আবার সচল হয়ে উঠলে নেপালের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পথ অনেকটাই সহজ হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারত, চীন ও নেপালকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি অনুরোধ করব, তিন প্রতিবেশী রাষ্ট্র হাতে হাত মিলিয়ে যৌথভাবে কিছু করুক। ভৌগোলিক ও পরিবেশগতভাবে আমরা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। তাই ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় রোধে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতেই হবে।”
পর্যটনই নেপালের জীবনযাত্রার মূল চালিকাশক্তি
নেপালের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে পর্যটনের গুরুত্ব তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মনীষা বলেন, তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ দুর্যোগ ঘটেছে—এ কথা সত্য। তবে নেপালিদের জীবনযাত্রার মূল চালিকাশক্তি পর্যটন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই না নেপাল বিশ্বমঞ্চে দুর্বল দেশ হিসেবে পরিচিত হোক। আমরা চাই মানুষ জানুক আমাদের সুন্দর আবহাওয়া, চোখজুড়ানো হিমালয়, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনার কথা। তাই আপনাদের ভালোবাসা ও সহায়তা বজায় রেখে আগের মতোই নেপাল আসুন।”
কোভিড মহামারির সময় থেকেই নেপালের পর্যটন খাত ক্ষতির মুখে পড়ে। এরপর দুটি বিমান দুর্ঘটনা দেশটির আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পর্যটনের মূল মৌসুম শুরু হওয়ার সময় ‘জেন-জি’ প্রজন্মের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন পুরো খাতকে হঠাৎ স্থবির করে দেয়।
এরই মধ্যে গত ২৬ আগস্ট হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ প্লাবনের আঘাতে নেপাল নতুন করে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে; এখনো সন্ধান মেলেনি অনেক নিখোঁজ ব্যক্তির।
নেপালের জন্মস্থান মনীষা কৈরালার। তাঁর পিতামহ বিশ্বেশ্বর প্রসাদ কৈরালা ছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।
সানা/আপ্র/২/৯/২০২৬