বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সাবেক বিচারপতি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৬৫০ জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাও রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত দাওয়াতি সমাবেশে তাঁরা দলটিতে যোগ দেন। মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে নতুন যোগদানকারীদের বরণ করে নেন।
যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার। তিনি বিএনপি থেকে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেওয়া ইসহাক সরকারের বড় ভাই।
সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এস এম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন এবং বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক পুলিশ সুপার ওবায়দুল হকও জামায়াতে যোগ দেন। তালিকায় রয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ, বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ।
এ ছাড়া ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজি শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও হুমায়ন কবির; বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান; ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজি আলতাব হোসেন; ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাবেদ ওমর এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদও যোগ দিয়েছেন।
যোগদানকারীদের মধ্যে আরো রয়েছেন কওমি আলেম মুফতি আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা জসিম উদ্দিন (রসুলপুরি), মাওলানা হাসান জামিলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
‘বাতিলের সঙ্গে কোনো আপস নয়’
সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি সমাজের মানুষের কোনো অকল্যাণ চান না। সব সময় মানুষের ক্ষতি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখে কিছুটা হলেও মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেন। তাঁকে নিয়ে নানা সমালোচনা করা হলেও এতে তিনি আত্মতৃপ্তি পান বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির।
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এমন ভাষায় কথা বলা উচিত নয়, যে কথা কেউ নিজের ব্যাপারে শুনলে তাঁর কলিজা টুকরা টুকরা হয়ে যায়। তলোয়ারের খোঁচার দাগ সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে গেলেও মুখের খোঁচার দাগ কখনো যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কওমি আলেমদের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত তাঁদের আলাদা করে দেখে না এবং তাঁদের দ্বীনি খেদমতকে ছোট মনে করে না। তাঁদের জন্য অন্তর থেকে দোয়া করেন এবং আল্লাহ যেন তাঁদের খেদমতে আরো বেশি বরকত দেন।
জামায়াতের আমির বলেন, বাতিলের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। কারও কাছে মাথা নত করা হবে না।
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চলার পথে বাধা, সমালোচনা ও গালিগালাজ আসবে। প্রয়োজনে জীবন দিতে হবে, বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চলে যেতে পারে। এসব আল্লাহর দেওয়া আমানত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আমানত আল্লাহকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। সঞ্চালনা করেন মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আবদুল মান্নান এবং ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনসহ অন্যরা।
সানা/আপ্র/২/৯/২০২৬