সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের সম্ভাব্য সুবিধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখছে। যেকোনো বহুপক্ষীয় সংস্থা বা জোটে যোগ দেওয়ার আগে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, কোনো জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কী সুবিধা হবে এবং দেশের মানুষের কী উপকার হবে—এসব বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এখনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি বাংলাদেশ: মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ পেয়েছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনো এমন কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব এলে জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে তখনও বাংলাদেশ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি।
এক সদস্যের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা: গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তিটি ঘিরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে গত রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যোগ দিলে কোনো ঝুঁকি দেখছে না সরকার।
তবে মঙ্গলবার শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তিটির সম্ভাব্য সুবিধা, ঝুঁকি এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর এর প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
সানা/আপ্র/১/৯/২০২৬