গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

মক্কা চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় ইরান: রাষ্ট্রদূত

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৫৮ পিএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৮ এএম ২০২৬
মক্কা চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় ইরান: রাষ্ট্রদূত
ছবি

বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি - ছবি মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি হিসেবে দেখছে না তেহরান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ উল্লেখ করে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো সিদ্ধান্তই ইরানকে চিন্তিত করে না। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-দুর্বলতার কারণেই মক্কা চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাৎ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জালিল রাহিমি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের কোনো চ্যালেঞ্জ বা বিরোধ নেই। তুরস্ক ও পাকিস্তান ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভালো বন্ধু। সৌদি আরবের সঙ্গেও ইরানের সুসম্পর্ক রয়েছে। ফলে মক্কা চুক্তি নিয়ে ইরানের উদ্বেগ বা চিন্তার কোনো কারণ নেই।

রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য, মক্কা চুক্তি এমন এক সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের এবং মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি না, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন: মক্কা চুক্তি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে এবং এতে যোগ দেওয়া মুসলিম দেশগুলো পরোক্ষভাবে তাদের স্বার্থ পূরণ করছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জালিল রাহিমি বলেন, বিষয়টি এমন নয়।

তিনি বলেন, অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা ছিল—তাদের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য জমি দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে হবে; বিনিময়ে তারা নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার পরিবর্তন, দেশটির ইউরেনিয়াম দখল, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ এবং নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্য নিয়ে হামলা চালিয়েছিল বলে ইরান মনে করে। কিন্তু ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো তাদের হাতেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, গত রাতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।

‘যুক্তরাষ্ট্র কি কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে?’ মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে জালিল রাহিমি বলেন, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো দেশগুলোকে এখন নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে—যুক্তরাষ্ট্র কি তাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে?

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি বা সমুদ্রপথ খোলার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। তাঁর মতে, মক্কা চুক্তি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের একটি পরিপূরক অংশ। এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অস্ত্রসম্ভার তাদের প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না।

তাই মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না তেহরান এবং এ নিয়ে ইরান মোটেও উদ্বিগ্ন নয় বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

আমন্ত্রণ পেলে চুক্তিতে যোগ দেবে ইরান: মক্কা চুক্তিতে যোগ দিতে ইরান নিজে কোনো প্রস্তাব দিয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে জালিল রাহিমি বলেন, ইরান নিজ থেকে যোগ দেওয়ার কোনো প্রস্তাব দেয়নি। তবে চুক্তির সদস্যদেশগুলো ইরানকে যোগ দেওয়ার আহ্বান বা প্রস্তাব দিলে তা বিবেচনা করবে তেহরান।

রাষ্ট্রদূত জানান, প্রায় ১০ বছর আগে ইরান মক্কা চুক্তির মতো উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য প্রতিষ্ঠা, যাতে এ অঞ্চলের কোনো দেশের কাছেই পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব সমর্থন করেনি বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের দ্বিতীয় প্রস্তাব ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সব ইসলামি দেশের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করা। তবে সে সময় আরব দেশগুলো প্রস্তাবটি সমর্থন করেনি। তাদের ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাই নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।

জালিল রাহিমি বলেন, এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সামনে প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে। তাঁর দাবি, আরব দেশগুলোর আকাশসীমা অতিক্রম করে ইরানের যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের দিকে গেছে, সেগুলো থামাতে যুক্তরাষ্ট্র সক্ষম হয়নি।
সানা/আপ্র/২/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিদ্যুৎ সংকটে সংসদে দুঃখ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রীর
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ সংকটে সংসদে দুঃখ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রীর

দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জাতীয় সংসদে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ,...

গ্যাস সংকটে অর্ধেকে নেমেছে পোশাক উৎপাদন
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস সংকটে অর্ধেকে নেমেছে পোশাক উৎপাদন

তীব্র জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও রফতানি আদেশ কমে যাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক খাত গভীর সংকটে পড়ে...

জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে সরকারের মহাপরিকল্পনা
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে সরকারের মহাপরিকল্পনা

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে বহুমাত্রিক ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকা...

বাংলাদেশের এলএনজি জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচলে বাধা নেই: ইরানি রাষ্ট্রদূত
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের এলএনজি জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচলে বাধা নেই: ইরানি রাষ্ট্রদূত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের সমস্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ হলো মেসির মহাকাব্য

লিওনেল মেসি ঘোষণা দিয়েছেন, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে আর খেলবেন না। ৩৯ বছরের এই কিংবদন্তির আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের শেষ দৃশ্য হয়ে রইল গত জুলাইয়ের বিশ্বকাপ ফাইনাল। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে সেদিন আর্জেন্টিনার হাতে ওঠেনি বিশ্বকাপ। কিন্তু মেসির জন্য সেই হারই যেন তাঁর দুই দশকের আন্তর্জাতিক মহাকাব্যের শেষ পৃষ্ঠা হয়ে থাকল। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন মেসি সঠিক সময়ে অবসর নিয়েছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে