ফকির হাসান আলী: বাগেরহাট সদর উপজেলার পূর্ব সায়েড়া লক্ষ্মীখালী ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু না করেই ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমান সোহেল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে তিনি বলেন, ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪ হাজার ২১ টাকা চুক্তিমূল্যের ব্রিজটির নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর এলাকার নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা নিশীথ বসুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করার অনুমতি পায় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, আল আমিন নামের এক ব্যক্তি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলজিইডির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্রিজের নির্মাণকাজের নামে ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। কাজ শুরু না করেই ব্রিজটির নির্মাণকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার মানুষকে কয়েক ঘণ্টা পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল বারাকপুর বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন করা হয়। এ ছাড়া বিষয়টির সমাধানে এলজিইডি কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার, প্রকল্প পরিচালক এবং বিএনপির নাম ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠা আল আমিনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিংবা আল আমিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সানা/আপ্র/২/৯/২০২৬