এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হচ্ছে আজ বুধবার (১ সেপ্টেম্বর)। শিক্ষার্থীরা ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এবার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা। একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিতে পারবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ২৪ আগস্ট একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করে। একই দিন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময়সূচি প্রকাশ করে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার বলেন, আবেদন গ্রহণের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মেধা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা এবং শিক্ষার্থীর দেওয়া পছন্দক্রমের ভিত্তিতে তাঁকে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হবে। এবার আগের বছরের মতো তিন ধাপে নয়, এক ধাপেই আবেদন গ্রহণ করা হবে।
আবেদন ও ফল প্রকাশের সময়সূচি
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের পর ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। একই সময়ে অন্য ভর্তিচ্ছুরাও তাঁদের পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ফল প্রকাশের পর ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর। আর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।
অনলাইনে আবেদন ও ভর্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রম শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
ভর্তি হবে এসএসসির ফলের ভিত্তিতে
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এবারও কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
একই জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করা হবে।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সমান মোট নম্বর হলে সাধারণ গণিত এবং উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে পাওয়া নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর বিবেচনা করা হবে।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সমান মোট নম্বর হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় পাওয়া নম্বর বিবেচনা করা হবে।
বিভাগ বাছাইয়ের সুযোগ
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো একটি বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার যেকোনো একটিতে এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন।
যেকোনো বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগের যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্যও নীতিমালায় আলাদা গ্রুপ নির্বাচনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে নিজেদের বিভাগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি হতে পারবেন। তবে তাঁদের ক্ষেত্রেও ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।
৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ—মোট ২ শতাংশ আসন মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত থাকবে। আবেদনকারী বেশি হলে সংশ্লিষ্টদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ কোটায় আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত অনুলিপি দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি দেখাতে হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিরা এ কোটার সুবিধা পাবেন না।
সংরক্ষিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে ওই আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই আসন শূন্য রাখা যাবে না।
আবেদন ও ভর্তির ফি
অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে ২২০ টাকা দিতে হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় শিক্ষা বোর্ডকে বিভিন্ন খাতে মোট ৩৪০ টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে নিবন্ধন, ক্রীড়া, রোভার ও রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর এবং শিক্ষককল্যাণ ও অবসরসুবিধা ভাতা বাবদ ফি রয়েছে।
এর বাইরে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রেড ক্রিসেন্ট ফি বাবদ ২৪ টাকা এবং বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি বাবদ ৪০০ টাকা নেওয়া যাবে।
কলেজে ভর্তির ফি প্রতিষ্ঠান, অবস্থান ও এমপিওভুক্তির ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত কলেজে ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। ঢাকার বাইরে অন্যান্য মহানগরে ৩ হাজার, জেলা পর্যায়ে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত কলেজে ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। ঢাকার বাইরের মহানগরে বাংলা মাধ্যমে ৫ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা, জেলা পর্যায়ে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় যথাক্রমে ২ হাজার ৫০০ ও ৩ হাজার টাকা নেওয়া যাবে।
সরকারি কলেজগুলো সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি ফি নেবে। দরিদ্র, মেধাবী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফি যতটা সম্ভব মওকুফের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নয়
স্থাপনের অনুমতি থাকলেও পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি নেই—এমন কোনো কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি বা স্বীকৃতি রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত ক্যাম্পাস বা শাখায় এবং অননুমোদিত কোনো বিষয়েও শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।
কোনো প্রতিষ্ঠান বোর্ড নির্ধারিত আসনসংখ্যার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। নীতিমালা লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি এবং এমপিওভুক্তি বাতিলসহ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/২/৯/২০২৬