বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে আগের নিয়মই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত আগের বিতর্কিত রেজুলেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
সভায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব হেলালুজ্জামান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশ নেওয়া মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আগের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। এ বিষয়ে শিগগির পরিপত্র জারি করা হবে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এনটিআরসিএ আর এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসে।
সভাটির কার্যবিবরণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছিল, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে এবং ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে না।
এতে আ বলা হয়েছিল, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।
ওই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর ঢাকা, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেন।
এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত, এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠন সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানায়।
এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষামন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানান, সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও রেজুলেশন হলেও সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং এবং পরে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের কথা জানানো হয়েছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত নতুন কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে আগের নিয়মেই শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা এবং এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এসি/আপ্র/০১/০৯/২০২৬