স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অনেকেই দামি ও বিদেশি খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। অ্যাভোকাডো, মাচা চা কিংবা বিভিন্ন ধরনের কথিত ‘সুপারফুড’ এখন স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় বেশ পরিচিত। এতে অনেকের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে, সুস্থ থাকতে হলে খাবারের পেছনে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
তবে বাস্তবতা হলো, শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে সবসময় দামি খাবারের প্রয়োজন হয় না। স্থানীয় বাজারে সহজলভ্য সাধারণ খাবার দিয়েই তৈরি করা সম্ভব সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা। ভাত, রুটি, ডাল, ডিম, ছোলা, সয়াবিন, পনির, দই, শাকসবজি ও মৌসুমি ফল হতে পারে প্রতিদিনের খাবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই দামি নয়
পুষ্টিবিদদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে খাবারের দাম নয়, বরং এর পুষ্টিগুণ, পরিমাণ ও খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ। সহজলভ্য, সাধারণভাবে রান্না করা যায় এবং নিয়মিত খাওয়া সম্ভব—এমন খাবারই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে বেশি কার্যকর।
শুধু পুষ্টিকর খাবার খেলেই হবে না, খাদ্যতালিকায় ভারসাম্যও থাকতে হবে। প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজন অনুযায়ী শর্করা, প্রোটিন, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সমন্বয় থাকা জরুরি।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মূল বিষয় হলো—ভারসাম্য, পরিমাণ ও ধারাবাহিকতা। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় সব ধরনের খাবার পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে এবং নিয়মিত সেই অভ্যাস ধরে রাখতে হবে। একদিন শাকসবজি খেয়ে পরের কয়েক দিন অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খেলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
ভাত খেয়েও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় ওজন
ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই প্রথমেই ভাত বা রুটি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার দীর্ঘ সময় শুধু সালাদ বা খুব কম খাবার খাওয়ার মতো কঠোর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সবসময় এমন কঠোর নিয়মের প্রয়োজন নেই।
পরিমিত পরিমাণে ভাত খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ভাতের পরিমাণের পাশাপাশি খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও শাকসবজি রাখার দিকে নজর দিতে হবে।
একটি খাবারের পাতে ছোট বাটি পরিমাণ ভাতের সঙ্গে ডাল, মাছ বা ডিম এবং পর্যাপ্ত শাকসবজি রাখা যেতে পারে। এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতাও কমানো সম্ভব।
তাহলে ‘স্মার্ট খাওয়া’ কী?
সহজভাবে বললে, খাবার নিয়ে অযথা কঠোর না হয়ে প্রয়োজন ও পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে খাবার বেছে নেওয়াই স্মার্ট খাওয়ার মূল কথা।
এ জন্য দামি খাবার কিনতে হবে না। স্থানীয় বাজারে পাওয়া সাধারণ খাবারই পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে খাবারের পাতে প্রোটিন, শাকসবজি, আঁশ ও শর্করার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করতে হবে।
ওজন কমাতে কী কমাবেন?
ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেয়ে অতিরিক্ত ক্যালরি, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার কমানোর দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত খাবার, ময়দায় তৈরি খাবার এবং বেশি তেলযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়া ভালো। পাশাপাশি নিয়মিত সময়ে পরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।
ঘরের খাবারেই পুষ্টির সমাধান
স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য সবসময় বাজারের দামি পণ্যের প্রয়োজন নেই। ঘরে রান্না করা ভাত, ডাল, ডিম, মাছ, শাকসবজি, দই ও মৌসুমি ফল দিয়েই তৈরি করা যায় পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যতালিকা।
মূল কথা হলো, কী খাচ্ছেন তার পাশাপাশি কতটা খাচ্ছেন এবং কতটা নিয়ম মেনে খাচ্ছেন, সেদিকেও নজর রাখা। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের শুরু হতে পারে খুব সাধারণ একটি জায়গা থেকেই—নিজের ঘরের খাবারের টেবিল থেকে।
এসি/আপ্র/০১/০৯/২০২৬