সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পেট পরিষ্কার না হলে সারাদিন অস্বস্তিতে কাটতে পারে। পেট ফাঁপা, হজমের সমস্যা কিংবা অনিয়মিত মলত্যাগের মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। এসব ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ বা ফাইবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ইসবগুল ও চিয়া বীজ—দুটিই আঁশের ভালো উৎস হলেও শরীরে এদের কাজের ধরন ভিন্ন। তাই কোনটি বেশি উপকারী, তা নির্ভর করে ব্যক্তির প্রয়োজনের ওপর।
কোষ্ঠকাঠিন্যে ইসবগুল এগিয়ে
কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যায় ইসবগুল বেশ কার্যকর। ইসবগুলের প্রধান উপাদান সাইলিয়াম হাস্ক পানির সংস্পর্শে এসে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে। এটি মলের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি মল নরম করতে সাহায্য করে, ফলে সহজে মলত্যাগ করা সম্ভব হয়।
চিয়া বীজেও প্রচুর আঁশ রয়েছে। পানিতে ভিজলে এটিও জেলির মতো হয়ে যায়। তবে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষেত্রে ইসবগুলের কার্যকারিতা নিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি গবেষণালব্ধ তথ্য রয়েছে।
কোলেস্টেরল কমাতে ইসবগুল
রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা কমাতে দ্রবণীয় আঁশ উপকারী। এ ক্ষেত্রে ইসবগুলের কার্যকারিতার পক্ষে শক্তিশালী গবেষণালব্ধ তথ্য রয়েছে। নিয়মিত ও পরিমিত ইসবগুল গ্রহণ রক্তে এলডিএলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
চিয়া বীজও রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে এ বিষয়ে গবেষণার ফলাফল এখনো ইসবগুলের মতো সুস্পষ্ট নয়।
পুষ্টিতে চিয়া বীজ এগিয়ে
আঁশের উৎস হিসেবে ইসবগুল কার্যকর হলেও সামগ্রিক পুষ্টিগুণের বিচারে চিয়া বীজ এগিয়ে। এতে আঁশের পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
অর্থাৎ শুধু হজমের সমস্যা দূর করা নয়, খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত পুষ্টি যোগ করতে চাইলে চিয়া বীজ ভালো বিকল্প হতে পারে।
ওজন কমাতে কোনটি ভালো
ইসবগুল বা চিয়া বীজ—কোনোটিই সরাসরি শরীরের মেদ কমায় না। তবে দুটিতেই পর্যাপ্ত আঁশ থাকায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে। এতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
তবে ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালরি গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম।
খাওয়ার সময় সতর্কতা
ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। কম পানি পান করলে পেটে অস্বস্তি কিংবা গুরুতর ক্ষেত্রে অন্ত্রে বাধা তৈরির ঝুঁকি থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি কোনো ওষুধ সেবন করলে ইসবগুল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো, কারণ এটি কিছু ওষুধের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে।
চিয়া বীজের ক্ষেত্রেও শুরুতেই বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প পরিমাণে শুরু করা উচিত। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে কোনটি বেছে নেবেন?
আপনার মূল লক্ষ্য যদি হয় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা, মলত্যাগ সহজ করা ও হজম স্বাভাবিক রাখা, তাহলে ইসবগুল বেশি উপযোগী হতে পারে।
অন্যদিকে, আঁশের পাশাপাশি প্রোটিন, ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন খনিজসহ বাড়তি পুষ্টি পেতে চাইলে চিয়া বীজ ভালো পছন্দ।
তবে দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটব্যথা, মলে রক্ত বা হজমের গুরুতর সমস্যা থাকলে শুধু এসব খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৬