২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সেই অর্থনীতির পথে চট্টগ্রাম বন্দরও দেশের সঙ্গে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে। ব্যবসা সম্প্রসারণে সরকার নীতি সহায়ক ও নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করবে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এপি মোলার-মায়েরস্কের বাংলাদেশে বিনিয়োগ একটি মাইলফলক। প্রতিষ্ঠানটি লালদিয়ায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করবে এবং এ কাজে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
ড্যানিশ শিপিং প্রতিষ্ঠান এপি মোলার-মায়েরস্কের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস এই প্রকল্পে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ করছে। এটি বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বৃহত্তম ইউরোপীয় একক ইক্যুইটি বিনিয়োগ বলে জানানো হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মোট ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমিতে টার্মিনালটি নির্মিত হবে। এর মধ্যে মূল টার্মিনাল ৩২ একর, কনটেইনার ইয়ার্ড ৭ দশমিক ১৫ একর এবং ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধার জন্য ১০ একর জমি রাখা হয়েছে।
টার্মিনালে সাতটি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি বৈদ্যুতিক রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি বৈদ্যুতিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর থাকবে। প্রকল্পটির স্থানীয় অংশীদার হিসেবে থাকছে কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড।
নির্মাণকাজ শেষ করতে সময় লাগবে তিন বছর। এরপর টার্মিনালটি ৩০ বছর পরিচালনার সুযোগ থাকবে। প্রয়োজনে এর মেয়াদ আরো ১৫ বছর বাড়ানো যাবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের বছরে প্রায় ৯ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা থাকবে। ৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটিতে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট ও ৬ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড।
এ ছাড়া ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জকরিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান এবং এপিএম টার্মিনালসের বৈশ্বিক ব্যবসা বাস্তবায়ন বিভাগের প্রধান জেক ক্রেইগ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কম লজিস্টিক ব্যয় ও বড় জাহাজে সরাসরি পণ্য পরিবহনের সুবিধার কারণে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালকে দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকারী প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৬