গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

মেনু

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর মন জুড়ানো ‘ঋতুরানি’ শরৎকাল

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৭ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২০:০৮ এএম ২০২৬
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর মন জুড়ানো ‘ঋতুরানি’ শরৎকাল
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ভাদ্র মানেই পলিমাটির এই বাংলায় শরতের স্নিগ্ধ ও রূপসী কন্যার মনমাতানো আগমন। বর্ষার একটানা ভারী বর্ষণ আর ধূসর মেঘের বুক চিরে আকাশ যখন সম্পূর্ণ ধুয়ে-মুছে একাকার হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই প্রকৃতি ধারণ করে এক অপরূপ ও নির্মল রূপ। বাংলা পঞ্জিকার ভাদ্র ও আশ্বিন- এই দুটি মাস মিলে আবর্তিত হয় ঋতুচক্রের অন্যতম সুন্দর ঋতু শরৎকাল।

প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় রূপ, অপরূপ সৌন্দর্য আর মন জুড়ানো আবহাওয়ার কারণে শরৎকালকে অত্যন্ত আদরে ও গৌরবে বলা হয়ে থাকে ‘ঋতুরানি’। এই ঋতু কেবল বাংলার ধরণীকে নতুন সাজে সাজিয়েই তোলে না, বরং তা প্রতিটি মানুষের মন ও আবেগে ছড়িয়ে দেয় এক অদ্ভুত শান্তি ও আনন্দের স্পন্দন।

শরতের আকাশ যেন কোনো নিপুণ শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা এক জীবন্ত চিত্রকলা। বর্ষার মেঘের ভারী আস্ফালন পেরিয়ে শরতের আকাশ হয়ে ওঠে গাঢ় নীলাভ ও কাচের মতো স্বচ্ছ। সেই রূপালি আকাশের বুকে দল বেঁধে ভেসে বেড়ায় পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘের ভেলা। দিনের সোনালী রোদে এই মেঘের মৃদু চলাচল আর বিচরণ মানুষের ক্লান্ত মনে নিয়ে আসে গভীর প্রশান্তি। প্রকৃতি যেন তার সমস্ত গ্লানি ধুয়েমুছে এক নতুনপ্রাণের সন্ধান পায় এই নীলাকাশের মাঝে।

গ্রামীণ বাংলার মেঠো পথ, নদী কিংবা খালের ধার, আর জলাভূমির চারপাশ জুড়ে শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির হয় স্নিগ্ধ কাশফুল। মৃদু বাতাসে যখন নদীর চরে এই সাদা ফুলগুলো দুলতে থাকে, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন তার শুভ্র হাসিতে চারপাশ আলোকিত করে তুলেছে। বাতাসে মাথা দুলিয়ে দেওয়া এই কাশবনই হলো শরতের সবচেয়ে বড় পরিচয় ও প্রতীক। এই অপরূপ দৃশ্য পথিকের মন কেড়ে নেয় এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে করিয়ে দেয় যে শরৎ এসে গেছে তার পূর্ণ মহিমায়।

ভোরের শিশিরভেজা ঘাসে ঝরে থাকা শিউলি ফুলের সুবাসে ভরে ওঠে চারপাশ। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার এই ছোট্ট ফুলগুলো শরতের স্নিগ্ধতাকে মূর্ত করে তোলে। একই সঙ্গে বাংলার দিগন্তজোড়া ধানক্ষেতগুলোতে শুরু হয় রূপান্তর। কাঁচা ধানের শীষে ধীরে ধীরে ধরতে শুরু করে সোনালি আভা। এই সোনালি রঙ কৃষকের মনে বুনে দেয় নতুন স্বপ্নের বীজ, কারণ শরতের হাত ধরেই বাংলার ঘরে ঘরে আগমন ঘটে উৎসবের আমেজ। ফলে শরৎ কেবল রূপের ডেসয়াই নয়, বরং এটি আবহমান বাংলার কৃষিজীবনের জন্যও এক পরম আশীর্বাদস্বরূপ।

যান্ত্রিক কংক্রিটের শহুরে জীবনেও শরতের ছোঁয়া লাগে ভিন্ন মাত্রায়। ব্যস্ত শহরের উঁচু ইমারতের ফাঁকে উঁকি দেওয়া নীল আকাশ আর দুপুরের একটু ফুরফুরে বাতাস শহরবাসীকেও কিছুক্ষণের জন্য হলেও ক্লান্তি ভুলিয়ে প্রাণবন্ত করে তোলে। অন্যদিকে, গ্রাম বাংলায় তখন অন্য রকম এক আনন্দোৎসব। নদীর ঘাটে ডিঙি নৌকার চলাচল, ধানের ক্ষেতে রোদের খেলা আর শিউলি ঝরার শব্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এভাবেই শহর ও গ্রাম- দুই ভিন্ন আঙ্গিকে শরৎ তার নিজস্ব মহিমায় ধরা দেয়।

শরৎ কেবল রূপ-লাবণ্যের কোনো ঋতু নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি, লোকগান এবং সমৃদ্ধ সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এক অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে জীবনানন্দ দাশ—সবার রচনায় বারবার ফিরে এসেছে শরতের ওই নীল আকাশ, শুভ্র কাশফুল, ভোরের শিউলি আর জোছনা প্লাবিত রাতের রূপ। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের তুলিকাতেও শরৎ হয়ে উঠেছে প্রকৃতির এক পরম বিস্ময়। তাই সব মিলিয়ে শরৎ কেবল একটি ঋতু নয়, এটি বাঙালির চিরন্তন আবেগ, নস্টালজিয়া আর ভালোবাসার অপরূপ নাম- আমাদের প্রাণের ‘ঋতুরানী’।

কেএমএএ/আপ্র/১৭.০৮.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

মানুষের পাশে না থাকা সামাজিক ও মানসিকসহ নৈতিকতার সংকট
১৭ আগস্ট ২০২৬

মানুষের পাশে না থাকা সামাজিক ও মানসিকসহ নৈতিকতার সংকট

বিপদের সময় মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সব সময় টাকা নয়; কখনো একটি ফোনকল, কখনো একটি দরজায় কড়া নাড়া, কখনো...

ক্যামেরার লেন্সে জীবন দেখায় হারাচ্ছে আসল স্মৃতিগুলোই
১৭ আগস্ট ২০২৬

ক্যামেরার লেন্সে জীবন দেখায় হারাচ্ছে আসল স্মৃতিগুলোই

আমাদের ফোনের গ্যালারিটা খুললেই চোখে পড়ে রাশি রাশি ছবির মেলা। কোথাও ঘুরতে গেলে পাহাড়, সমুদ্র, সূর্যাস...

প্রতিদিনের নাস্তায় ঝামেলাহীন স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে তিন পদ
১৭ আগস্ট ২০২৬

প্রতিদিনের নাস্তায় ঝামেলাহীন স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে তিন পদ

সকালের নাস্তা দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাবার। তবে ব্যস্ততার কারণে অনেকেই প্রতিদিন একই ধরনের নাস্তা...

তিন শতাব্দী পর নতুনরূপে ফিরেছে সাজগোজের টেবিল
১৭ আগস্ট ২০২৬

তিন শতাব্দী পর নতুনরূপে ফিরেছে সাজগোজের টেবিল

এক সময় ভ্যানিটি বা সাজের টেবিল ছিল শুধু সৌন্দর্যচর্চার আসবাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ক্ষমতা, সামাজিক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা কতটা, প্রাপ্তি কতখানি

আজ ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নে সরকার যেমন বেশ কিছু অর্জনের কথা বলছে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের প্রশ্নও সামনে এসেছে। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ছয় মাসের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সব কর্মসূচিই পূরণ হয়েছে-কোথাও ৯০, কোথাও ৯৫ এবং কোথাও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রিয় পাঠক, সরকার ভালো করছে নাকি মন্দ করছে? হ্যাঁ বা না জানান।

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 17 ঘন্টা আগে