গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ক্যামেরার লেন্সে জীবন দেখায় হারাচ্ছে আসল স্মৃতিগুলোই

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৪ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৩:১১ এএম ২০২৬
ক্যামেরার লেন্সে জীবন দেখায় হারাচ্ছে আসল স্মৃতিগুলোই
ছবি

ছবি সংগৃহীত

আমাদের ফোনের গ্যালারিটা খুললেই চোখে পড়ে রাশি রাশি ছবির মেলা। কোথাও ঘুরতে গেলে পাহাড়, সমুদ্র, সূর্যাস্ত কিংবা বিশেষ মুহূর্তগুলো আমরা ক্যামেরায় বন্দী করে রাখি। উদ্দেশ্য একটাই- সময় চলে গেলেও মুহূর্তটা যেন হারিয়ে না যায়। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, গ্যালারিতে জমে থাকা হাজারটা ছবির মধ্যে ঠিক কয়টা ঘটনার স্মৃতি স্পষ্ট মনে থাকে! বেশির ভাগ অভিজ্ঞতাই হয়তো স্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে। আসলে ক্যামেরার লেন্স দিয়ে জীবন দেখতে গিয়ে আসল স্মৃতিগুলোকেই হারিয়ে ফেলছি। তা হলো-

ফটো-টেকিং ইমপেয়ারমেন্ট ইফেক্ট: অতিরিক্ত ছবি তোলার ফলে স্মৃতি ধূসর হয়ে যাওয়ার এই মনস্তাত্ত্বিক ঘটনাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ফটো-টেকিং ইমপেয়ারমেন্ট ইফেক্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ফেয়ারফিল্ড ইউনিভার্সিটির মনস্তত্ত্ববিদ লিন্ডা হেঙ্কেল এই বিষয়ে প্রথম একটি যুগান্তকারী গবেষণা করেন। তার গবেষণায় দেখা যায়, মানুষ যখন কোনো বস্তু চোখে দেখে, তখন মস্তিষ্কে তার স্মৃতি যতা গভীর হয়, ছবি তুললে তা ঘটে না। ক্যামেরা বা ফোনে ছবি তুললে মস্তিষ্ক ধরে নেয়, বাইরের যন্ত্রটিই তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে অফলোডিং মেমোরি। ফলে মস্তিষ্ক নিজে ঘটনাটিকে গভীর স্মৃতিতে রূপান্তরের চেষ্টা বন্ধ করে দেয়।

মনোযোগের বিভাজন ও ইন্দ্রিয়ের অনুপস্থিতি: ক্যামেরা বা ফোন নিজে আসলে কোনো সমস্যা নয়। আসল সমস্যা তৈরি হয় আমাদের মনোযোগের বিভাজনে। ছবি তোলার সময় সঠিক ফ্রেম মেলানো, ফোনের আলো ঠিক করা বা অ্যাঙ্গেল খোঁজার পেছনে আমাদের মনোযোগের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়। ফলে আসল মুহূর্তটি মন দিয়ে অনুভব করা আর সম্ভব হয় না। এ ছাড়া একটি ঘটনাকে পরিপূর্ণ স্মৃতি বানাতে আমাদের পঞ্চইন্দ্রিয়ের ভূমিকা থাকে। ফলে ছবিটি হয়তো মেমোরি কার্ডে থেকে যায়। কিন্তু মস্তিষ্কের স্মৃতির অ্যালবামে থেকে যায় এক বিরাট শূন্যতা।

স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ: অতীতে ক্যামেরার ফিল্মের সীমাবদ্ধতা ছিল বলে মানুষ বুঝে-শুনে শুধু বিশেষ মুহূর্তের ছবি তুলত। কিন্তু স্মার্টফোনের যুগে ডিজিটাল স্টোরেজ আনলিমিটেড হওয়ায় একই দৃশ্যের ডজন ডজন ছবি তোলা এখন কোনো ব্যাপারই না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগৎ। ছবি তোলার মুহূর্তে আমরা অনেক সময় ভাবি, অন্যরা ছবিটি দেখে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে বা ছবিতে কেমন লাইক বা কমেন্ট আসবে। এই বাহ্যিক প্রদর্শনের মানসিক চাপ বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়।

ছবি তোলা মানেই কি স্মৃতি নষ্ট হওয়া: ছবি তোলা মানেই যে সব সময় স্মৃতি নষ্ট হওয়া, ব্যাপারটা এমন নয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কোনো বস্তু বা দৃশ্যের একটি বিশেষ খুঁটিনাটি অংশে জুম করে বা গভীরভাবে লক্ষ রেখে ছবি তুললে সেটি উল্টো স্মৃতিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। এ ছাড়া তোলার পর নিয়মিত সেই ছবিগুলো দেখা এবং বন্ধুদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প করলেও মস্তিষ্ক অনেক সময় সেই স্মৃতিকে নতুন করে সাজিয়ে শক্ত করে তোলে।

মানতে হবে ৮০ঃ২০ অনুপাত: বিশেষজ্ঞরা এই যান্ত্রিক ফাঁদ থেকে বের হতে ৮০ অনুপাত ২০ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ যে কোনো সুন্দর মুহূর্তের প্রথম ৮০ শতাংশ সময় শুধু নিজের দু’চোখ দিয়ে উপভোগ করুন এবং অনুভূতির অভিজ্ঞতা নিন। আর বাকি ২০ শতাংশ সময় ছবি তোলার পেছনে ব্যয় করুন। আগে নিজের মনে ঘটনাটির ছবি আঁকুন, তারপর ফোনের স্ক্রিনে তা বন্দি করুন। সূত্র: সায়েন্স ফোকাস।

কেএমএএ/আপ্র/১৭.০৮.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

আজ নুডলস দিবস
০৬ অক্টোবর ২০২৬

আজ নুডলস দিবস

আজ ৬ অক্টোবর নুডলস দিবস। প্রতি বছর এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে নুডলস দিবস পালন করা হয়। সহজে রান্না করা যায়...

মানুষের বিবেকহীন স্বার্থ, অসচেতনতা ও নিষ্ঠুরতায় বিপন্ন হচ্ছে প্রাণিকুল
০৫ অক্টোবর ২০২৬

মানুষের বিবেকহীন স্বার্থ, অসচেতনতা ও নিষ্ঠুরতায় বিপন্ন হচ্ছে প্রাণিকুল

পৃথিবী শুধু মানুষের বসবাসের জায়গা নয়। এই পৃথিবীতে মানুষের পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য প্রাণী- যাদের প্রত্য...

অনামিকায় আংটি পরার রীতিতে লুকানো সাংস্কৃতিক বিবর্তন
০৫ অক্টোবর ২০২৬

অনামিকায় আংটি পরার রীতিতে লুকানো সাংস্কৃতিক বিবর্তন

আজকাল ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের ফিড স্ক্রল করলেই ভেসে ওঠে আবেগঘন ভালোবাসার মুহূর্ত। কোনোটিতে দেখা যায়,...

মা-বাবার প্রয়োজন সন্তানের সঙ্গ, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা
০৫ অক্টোবর ২০২৬

মা-বাবার প্রয়োজন সন্তানের সঙ্গ, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা

কোনো কাজে কিংবা একটু আড়াল হলেই মা-বাবা সন্তানদের নিয়ে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। বৃদ্ধ মা হয়তো দরজার দিকে তাক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই