কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মধ্যকুমারপুর এলাকায় সরকারি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পানি চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় চার একর কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় কৃষক মো. নুর ইসলাম।
লিখিত আবেদনে নুর ইসলাম উল্লেখ করেন, ওই এলাকায় একটি সরকারি কালভার্টের মাধ্যমে প্রায় দুই একর ২৫ শতক কৃষিজমিতে দীর্ঘদিন ধরে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রয়েছে। তার অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজিজুল হক সম্প্রতি সরকারি কালভার্টটির মুখ এবং পানি চলাচলের পথ গায়ের জোরে বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে তার জমিতে পানি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
কালভার্টের পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন নুর ইসলাম। তিনি আবেদনে আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত আজিজুল হককে একাধিকবার কালভার্টটি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তাতেও অভিযোগের সুরাহা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টের মুখে বস্তা, নেটসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে কালভার্ট দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নুর ইসলামের জমি ছাড়াও আরো প্রায় দেড় একর কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী নুর ইসলাম বলেন, সরকারি কালভার্টটি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন ও সেচের ব্যবস্থা হয়ে আসছিল। কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকায় জমিতে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তার জীবিকা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত কালভার্টটি উন্মুক্ত করে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
এলাকাবাসী রুজিনা বেগম বলেন, কালভার্টটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মুখ বন্ধ থাকলে কৃষিজমিতে পানি জমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। তিনি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এলাকাবাসী সাহের আলী বলেন, সরকারি কালভার্টের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করার অভিযোগটি তদন্ত করা প্রয়োজন। কালভার্টটি যদি সত্যিই পানি নিষ্কাশনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি বন্ধ থাকায় কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। প্রশাসনের সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আজিজুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আবেদনের অনুলিপি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নুর ইসলাম। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এখন প্রশাসনের তদন্ত ও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে সরকারি কালভার্টটির প্রকৃত অবস্থা এবং পানি চলাচলে বাধার কারণ নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছেন অভিযোগকারী ও স্থানীয়রা।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৭/৮/২০২৬