গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:১১ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২১:১২ এএম ২০২৬
দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মুসলিম আইনে পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরে এটি সামাজিক ও আইনি বিতর্কের বিষয় ছিল। এতদিন প্রচলিত ধারণা ছিল, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তবে সম্প্রতি হাইকোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এই ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। আদালতের মতে, মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি কোথাও স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত। ফলে কাউন্সিলের অনুমতি থাকলে স্ত্রীর সম্মতি না থাকলেও আইনগতভাবে দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ হবে না।

আইনি প্রেক্ষাপটে আদালত ব্যাখ্যা করেন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রণীত হলে নারীদের ক্ষেত্রে ওই কঠোর শাস্তি বহাল থাকলেও পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বলে জানান রিটকারীরা।

সমাজবিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করছেন, আর্থিক সক্ষমতা বা সামাজিক প্রভাবের কারণে অনেক পুরুষ একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহার করতে পারেন। এতে পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈষম্য ও নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আপিল বিভাগে এই মামলা গড়ালে তা আইন ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে এবং ভবিষ্যতে মুসলিম পারিবারিক আইনের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

ওআ/আপ্র/১১/০১/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসান গ্রেপ্তার
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসান গ্রেপ্তার

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মা...

বারিধারায় শ্রমিকের মৃত্যু, কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বারিধারায় শ্রমিকের মৃত্যু, কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ

রাজধানীর বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মী...

হাসিনা-কাদের-বেনজীরসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি আজ
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাসিনা-কাদের-বেনজীরসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি আজ

কক্সবাজারের টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই